<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss' xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475</id><updated>2011-07-08T07:11:27.434-07:00</updated><title type='text'>আদম সন্তান</title><subtitle type='html'>"আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন..."(২;৩১)</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default?max-results=100'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>7</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>100</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475.post-88092646670608579</id><published>2009-07-02T23:49:00.000-07:00</published><updated>2009-07-02T23:53:17.173-07:00</updated><title type='text'>"কৃতজ্ঞতাবোধ সিনড্রম" ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক</title><content type='html'>(১)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্কটি সবসময়ই একটি অনির্দিষ্ট ধরণের এবং এর স্বরূপটি ঠিক কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে দেশের মানুষের মধ্যে বা রাজনীতিবিদদের মধ্যে ঐক্যমত্য নেই।  যদি ঔচিত্যবোধের প্রশ্ন তোলা হয় তাহলে বলতে হবে কারো সাথে গায়ে পড়ে অশান্তি সৃষ্টি করা কোন সুনীতি হতে পারেনা, সে হিসেবে ভারতের সাথে আমাদের শান্তিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই বাঞ্ছনীয়। এ বিষয়ে মনে হয়না কারো দ্বিমত করার অবকাশ আছে। তবে শান্তিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে ভারতের পক্ষ থেকে যতটুকু অনুকূল সাড়া প্রয়োজন তা ভারত গত ৩৭ বছরে কতটুকু দিয়ে এসেছে? ভারতের আচরণ কি বন্ধত্বপূর্ণ, যুক্তিযুক্ত এবং সমঅধিকারের স্বীকৃতি দ্বারা পরিচালিত নাকি এটি উন্নাসিকতা, ঔদ্ধত্য ও আগ্রসী মনোভাব দ্বারা পরিচালিত? এ মৌলিক প্রশ্নগুলোর ব্যপারে দেশের মানুষ যেন ঠিক অতটা নিশ্চিত নয়। কোথায় যেন একটা সন্দেহ সংশয় সর্বদা তাড়া করে ফেরে। ধারণা করা যেতে পারে এ সন্দেহ সংশয়ের বীজ প্রোথিত রয়েছে বেশ অতীতে, বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির যখন অভ্যুদয় ঘটছিল তখন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার প্রক্রিয়ায় ভারত সরাসরি সাহায্য করে, এ সত্যটির আলোচনা বাদ দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিশ্লেষণ অপূর্ণাংগ থাকতে বাধ্য এবং এটিই হচ্ছে সেই ঘটনা যা ভারত সম্পর্কে আমাদের একটি ঐক্যবদ্ধ ধারণায় উপনীত হতে নানা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ফেলে দিচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় সম্ভবত দেশের কারো কারো ধারণা যেহেতু বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছে ভারত, তাই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তার সাথে চিরকাল প্রশ্নাতীত ও নিশর্ত (ভারতের আচরণ যাই হোক না কেন) বন্ধত্বের হাত বাড়িয়ে রাখাই বাংলাদেশের একমাত্র কাজ হওয়া উচিত। আরো মনে করা হয়, যেহেতু ভারত আমাদের তুলনায় অতিমাত্রায় বৃহৎ শক্তির দেশ তার সাথে আমরা মোকাবেলা করে পারবনা কখনই, আর তাই ভারত বিরোধী মনোভাব স্থূল রাজনৈতিক কৌশল বৈ আর কিছুই নয়। কাজে কাজেই এসব স্থূলতা পরিহার পূর্বক বাংলাদেশের কিছু স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে হলেও ভারতের স্থায়ী আনুকূল্য লাভই আমাদের কর্তব্য। এ ধরণের লোকেরা কতটা দেশপ্রেমিক সে বিষয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। হয়ত দেশেপ্রেম বোধের চাইতে কৃতজ্ঞতাবোধের চেতনা তাদের অনেক বেশি তাড়িত করে। এ ধরণের লোকেরা সম্ভবত “কৃতজ্ঞতাবোধ সিনড্রোমে” ভুগছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্যদিকে দেশের একটি বড় অংশ মনে করে স্বাধীনতা যুদ্ধে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ বটে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে এর ফলে বাংলাদেশকে চিরতরে ভারতের সামনে মাথা নিচু করে চলতে হবে। পিনাকরঞ্জনের মন্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে যেয়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক বলেন, “...ভারত আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহায়তা করেছে, তাই বলে আমরা সব কিছু উজার করে দেশকে বিপন্ন করে সব সময় ভারতের চাহিদামত সবকিছু দিতে বাধ্য থাকব! এটা কোন দেশপ্রেমিক স্বাধীনচেতা নাগরিকের উপলব্ধি হতে পারেনা। স্বাধীনতাযুদ্ধে সহায়তার বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতকে অনেক বেশি দিয়েছে। আর কত দিতে হবে? এ বিষয়টাও পরিষ্কার হওয়া দরকার। ” (আমার দেশ, ২৩ জুন ২০০৯, পৃষ্ঠা ১৩)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্যদিকে ভারত যে তার নিজের স্বার্থেই সাহায্য করেছিল এটি অস্বীকার করার উপায় নেই। এমনকি নিজে থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করার ইচ্ছাও ভারতের কতটা ছিল তাও সন্দেহ। আর তাই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাবে ভারত খুশি হতে পারেনি। এ প্রেক্ষিতে বলা যায় ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ব্যাপারে যতটা উৎসাহী ছিল তার চেয়ে হয়তবা নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি তার কাছে মুখ্য ছিল। এ প্রসংগে নিউ এজ পত্রিকায় লেখা আর্টিকেলে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলছেন, “...It was after all in that year (1971) that India joined us in our glorious war of liberation against the occupying Pakistani army that gave us our motherland, Bangladesh, and at the same time served to achieve the otherwise unachievable Indian desire to dismember, and thereby, severely weaken its arch enemy Pakistan....It was however, not long before our intrinsic sense of suspicion took over and we wanted the Indian army to leave our soil, much to the displeasure of the Indian ruling establishment.... ” (নিউ এইজ, ২৩ জুন ২০০৯, পৃষ্ঠা-১০ ) অর্থাৎ, ...এটিই হচেছ সেই সাল (১৯৭১) যখন দখলদার পাক সেনাদের বিরুদ্ধে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত আমাদের সাথে অংশগ্রহন করে এবং আমরা আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশ লাভ করি। এই ঘটনা একই সাথে ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু পাকিস্তানকে আলাদা করার মাধ্যমে একে দারুণভাবে দুর্বল করে দেবার ভারতীয় লক্ষ্য পূর্ণ করে দেয়, যা অন্য কোনভাবে অর্জন করা সম্ভব ছিলনা। ...কিন্তু অল্পসময় না যেতেই আমাদের সহজাত সন্দেহের অনুভূতি আমাদের পেয়ে বসল এবং আমরা চাইলাম ভারতীয় সৈন্যরা আমাদের মাটি ছেড়ে যাক, যা ভারতীয় শাসকগোষ্ঠীকে বেশ অসন্তুষ্ট করে...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ভারত আসলে তার মৌল নীতির কোন পরিবর্তন করেনি। স্বাধীনতার প্রাক্কালে যেমন, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও ভারত নিজেদের স্বার্থেই কাজ  করে গেছে।  সেই স্বার্থ আদায়ের ক্ষেত্রে ন্যায়-অন্যায় বোধ ও আন্তর্জাতিক আইন বা নিয়ম নীতির তোয়াক্কা মনে হয় খুব কম ক্ষেত্রেই করেছে। আর তাই স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারতের বন্ধত্বের নমুনা আমাদেরকে হতাশ এবং ক্ষুব্ধ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি আলোচিত ঘটনা হচেছ বিএসএফ কর্তৃক দৃকনিউজ প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিক শহীদুল আলমের গ্রেফতার হওয়া। শহীদুল আলম বর্ডারের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তিনি বিশ্বের অনেক ভয়াবহ বর্ডার দেখেছেন, যেমন প্যালেস্টাইন বর্ডার, জার্মান-পোল্যান্ড বর্ডার যেখানে নাইট শুটিং গান দিয়ে পাহারা দেয়া হয়; কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ বর্ডারকে তার কাছে ওসবের চেয়েও ভীতিকর মনে হয়েছে। তিক্ত অভিজ্ঞতা অর্জন শেষে তিনি ক্ষোভের সাথে মন্তব্য করেন, “Considering that India has played such an important role in the liberation of Bangladesh, one would have expected a very, very different relationship between these two countries. Considering we call ourselves members of SAARC, we’d expect far more cordial relations between ourselves. The fence, the fact that the BSF is so trigger-happy, the fact that 52 Bangladshi have been gunned down in the last 6 months, the fact that it is a zone of terror for local people and for our BDR, speaks volumes of what it should not be about.” (নিউ এইজ, ২২ জুন ২০০৯, পৃষ্ঠা-১১) অর্থাৎ, তিনি বলতে চাচেছন, ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, এই বিষয়টি আমলে নিলে যে কেউ দু’দুদেশর মধ্যে অত্যন্ত আলাদা ধরণের সম্পর্ক আশা করবে। তাছাড়া আমরা নিজেদের সার্কের সদস্য বলি, এই হিসেবেও আমাদের মধ্যে আরো সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আশা করা যায়। কিন্তু সীমান্ত প্রাচীর, বিএসএফের বন্দুকবাজির স্বভাব ও এর কারণে গত ৬ মাসে ৫২ জন বাংলাদেশীর মৃত্যু, এবং সীমান্ত এলাকা বিডিআর ও সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাসের রাজত্ব হবার ঘটনা ইত্যাদি বিষয়গুলো দু’দেশের সম্পর্কটি যে এমন নয় তা আমাদের বলে দেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এতকিছু পরও আমাদের অনেকের জন্যই দ্বিধা দন্দ্ব থেকে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আর এর কারণ খুজতে গিয়ে বিষয়টিকে একটু ভিন্ন আংগিকে বিশ্লেষণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। তার মতে আমাদের এই পররাষ্ট্রনীতির দ্বিধা দোদুল্যমানতা এবং বাইরের দেশের প্রভাব বিস্তার সমস্যাটির উৎস হচেছ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পরিচালনা পদ্ধতি। তিনি বলছেন, “...বাংলাদেশের আজকের সমস্যার মূলে রয়েছে যেভাবে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে - আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে আমাদের স্বশক্তি দিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত করতে পারিনি। সেটা করতে না পারার ফলেই বহু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। হয়তো আমাদের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, আমাদের প্রতিবেশিক অবস্থান এবং যাদের হাতে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিল সেই নেতৃত্বের দুর্বলতার জন্য মুক্তিযুদ্ধ তার যৌক্তিক পরিণতিতে যেতে পারেনি। যে কোন মুক্তিযুদ্ধের জন্য বৈদেশিক সাহায্য, আন্তর্জাতি সমর্থন প্রয়োজন হয় এবং সেই সাহায্য ও সমর্থন নেয়া অযৌক্তিক বা অনৈতিক নয়। কিন্তু যে মুক্তিযুদ্ধে অন্য দেশের সৈন্যরা সশরীরে এসে হাজির হয় তখন সেটা মৌল চরিত্র হারিয়ে ফেলে। ভিয়েতনামিরা আমেরিকা এবং ফরাসীদের বিরুদ্ধে দুই যাত্রায় দুই স্তরে মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তারা অনেক দেশের কাছ থেকে ম্যটিরিয়াল এবং নৈতিক সহযোগিতা নিয়েছে। কিন্তু একটি বিদেশি সৈন্য তাদের পক্ষে লড়াই করেছে এই দৃষ্টান্ত কেউ দিতে পারেনা। সেজন্য আজকে ভিয়েতনাম রাষ্ট্রটি অন্যভাবে গড়ে উঠেছে এবং রাষ্ট্রটির ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হচেছ। ” (আমার দেশ, ২৮ মে ২০০৯, পৃষ্ঠা -৬)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(২)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তী, যারা অযথা ভারত বিরোধীতার নামে দুই দেশের বন্ধত্বপূর্ণ (?) সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে চায় তাদের নিন্দা করলেন। একটু আগেই দৃকনিউজ প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিক শহীদুল আলমের জবানীতে ভারতের বন্ধত্বের কিছু নমুনার কথা বলা হয়েছে। এ তালিকা অনেক দীর্ঘ করা যায়। এ সম্পর্কে বিভিন্ন লেখকরা লিখছেন। এখানে সে বিষয়ে বিস্তারিতে আলোচনা করার অবকাশ নেই। তবুও পাঠকদের স্মৃতি ঝালিয়ে নেয়ার জন্য কিছু তথ্য দেয়া একেবারে অসমীচিন হবেনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;২০০০ সাল থেকে জুলাই ২০০৮ পর্যন্ত বিএসএফের হাতে খুন হয়েছে ৭৬৭ জন, আহত হয়েছে ৭৮৬ জন, অপহৃত হয়েছে ৬৭৫ জন। গ্রেফতার ৫১৩ জন, ধর্ষিত ১০ জন, নিখোজ ৮২ জন এবং লুট হয়েছে ৬১ টি। ২০০৩ সাল থেকে ২০০৮ সালের জুন পর্যন্ত শুধুমাত্র ফেন্সিডিলের বোতল আটক করা হয়েছে ১৪ লক্ষ ৯০ হাজার ৪০২ টি। (বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নাল) আগেই বলা হয়েছে বিগত ছয় মাসে ৫২ জন বাংগালী নিহত হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের বিভ্ন্নি সীমান্ত এলাকায় সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার একর জমি দখলে রেখেছে। (বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি কয়েকটি আলোচিত সমস্যা, ড. মোহম্মদ আবদুর রব) চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বেরুবাড়ী হস্তান্তর করলেও, ভারত চুক্তি অনুযায়ী কাজ করেনি। আংগরপোতা ও দহগ্রামের মানুষদের দৈনন্দিন দুর্ভোগ সীমাহীন। আর ফারাক্কার কথাতো এখানে নতুন করে আলোচনা করার কিছুই নেই। তবে এসব তথ্য, উপাত্ত ও পরিসংখ্যানের চাইতেও সবচেয়ে ভীতিকর বিষয় হল ভারতের মনোভাব। আর এই মনোভাবটি মাঝে মাঝে ভারতের বিভিন্ন মিডিয়া, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবি বা আমলাদের বক্তব্য থেকে প্রকাশ হয়ে পড়ে। অতি সম্প্রতি ভারতের মনোভাব প্রকাশক এমনই একটি মন্তব্য পাওয়া গেছে ভারতের সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল শংকর রায় চৌধুরীর কাছ থেকে। তিনি বলেছিলেন, “Delhi can’t afford to let Dhaka slip off its radar” (এশিয়ান এজ পত্রিকা, ২৮ মার্চ ২০০৯)। অর্থাৎ ভারত কিছুতেই বাংলাদেশকে তার রাডার বা প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে যাওয়াটা বরদাশত করতে পারেনা। ভারত যে শুধু বাংলাদেশকেই তার প্রভাব বলয়ে রাখতে চায় ব্যাপারটি তা নয়। বরং অন্যান্য প্রতিবেশীদের ব্যাপারেও তার প্রায় একই মনোভাব। ভারত তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে কেমন আচরণ করবে সে বিষয়ে স্পষ্টভাবে সুপারিশ করেছেন স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের প্রফেসর ব্রক্ষ্ম চেলানি। ব্রক্ষ্ম চেলানি দিল্লী ভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চে কাজ করেন এবং তাকে ভারতের শীর্ষ স্ট্রাটেজিক থিঙ্কারদের মধ্যে একজন মনে করা হয়, ইন্টারন্যাশনাল হেরাল্ড ট্রিবিউনেও তার সম্পর্কে এমনই মন্তব্য করা হয় (International Herald Tribune, February 21, 2009,)। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্ট্রাটেজিক ব্যাপার সম্মন্ধে এই অতি পরিচিত ভাষ্যকার ভারতের প্রতিবেশী বিষয়ক পলিসির জন্য তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেন। এক. কার্যকরভাবে বর্ডার ম্যানেজ করা। দুই, এসব রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ ঘটনা প্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করা যাতে তারা ইনডিয়া বিরোধী তৎপরতার জন্য স্টেজিং গ্রাউন্ড বা ঘাটি হিসেবে ব্যবহৃত না হয় এবং তিন, নিয়ন্ত্রিত দেশ অথবা আশ্রিত রাজ্য হিসেবে ইনডিয়াতে তাদের গ্রহন করার ক্ষমতা। (যায়যায়দিন ১৬ জুলাই ২০০৬)  এজন্যই আমরা প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি দেখে থাকি। শ্রীলংকার এলটিটিই-এর পেছনে থেকে সহায়তার ব্যাপারটিতো সবারই জানা। এমনকি আফগানিস্তানের আভ্যন্তরিণ ব্যাপারেও ভারতের হস্তক্ষেপ আছে বলে ধারণা করা হয়। প্রোব ম্যাগাজিন “US Report: India, Not Pakistan, Creating Trouble for NATO in Afghanistan” শীর্ষক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, “...US intelligence community is well aware, this is a problem which is exacerbated not only be the Taliban alliance with the so called al Qaida movement, moving into Pakistan from Afghanistan, but also because of covert support by the Indian Government and its intelligence services principally RAW, the Reasearch &amp; Aanlysis Wings for the jihadist movement” (Probe, 17-23 October, 2008)। অর্থাৎ, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুব ভালভাবেই জানে যে, এই সমস্যাকে আরো খারাপের দিকে নিয়ে যাবার পেছনে পাকিস্তান থেকে আফগানিস্থানে আসা তথাকথিত আলকায়েদা আন্দোলনের সাথে জোটবদ্ধ তালেবানরাই একমাত্র দায়ী নয়, বরং জিহাদী আন্দোলনের পেছনে রয়েছে ভারত সরকার ও এর গোয়েন্দা সংস্থা বিশেষ করে “র”, রিসার্চ এন্ড এনালাইসিস উইং,-এর গোপন সমর্থন।&lt;br /&gt;আসলে ভারত গ্লোবাল প্লেয়ার হতে চায় এবং একসময় সে বিশ্বের অন্যতম সুপার পাওয়ার হিসেবে আবির্ভুত হবে বলে তার  বিশ্বাস।  এজন্যই আশে পাশের দেশগুলোর প্রতি তার নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন। প্রফেসর ব্রক্ষ্ম চেলানির পরামর্শানুযায়ী প্রয়োজনে আশেপাশের দেশগুলোকে সে হয়ত নিজের মধ্যে গ্রহনও করে নিতে চাইবে। আর এ ব্যাপারটি যে একেবারে অসম্ভব নয় তাতো ভারত সিকিমের ঘটনার মাধ্যমেই প্রমাণ করে দিয়েছে। এজন্যই বাংলাদেশের মধ্যে সবসময়ই একটি ভয় কাজ করে এবং সেটিই স্বাভাবিক। আর এই ভয়ের ব্যাপারটি বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনুসও স্বীকার করছেন। তিনি বলছেন, “Although Bangladesh remains grateful to India for its military help during our liberation war, a pervasive feeling of fear about India persists in Bangladeshi minds. Perhaps this is understandable – India is seven times bigger than Bangaladesh, surrounds Bangaladesh almost completely, has the third largest army in the world, and is predominantly Hindu rather than Muslim” (Economic Times, 25/5/2008) অর্থাৎ, “বাংলাদেশ তার স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সামরিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞ হলেও ভারতের ব্যাপারে একটি সর্বব্যাপী ভীতি কাজ করে বাংলাদেশের মনে। সম্ভবত এর কারণটা বোধগম্য - ভারত বাংলাদেশের চাইতে সাতগুণ বড় ও এটি বাংলাদেশকে প্রায় পুরোপুরি ঘিরে রেখেছে। এর রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী। এর সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মুসলিম নয় বরং হিন্দু।” এই ভয়টি যে শুধু মানসিক কোন ব্যপার নয় বরং এর পেছনে সত্যিকার কারণ জড়িত তা বলছেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী। তিনি বলছেন, বাংলাদেশ জাতি হিসেবে যাত্র শুরু করার পর থেকেই আমরা আমাদের আভ্যন্তরিন কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপ অনুভব করতে থাকি। তিনি বলেন এই হস্তক্ষেপের ব্যাপারটি ধারণামূলক নয় বরং সত্যিকার। তিনি আরও জানান, “A senior Indian diplomat once told me personally at a social meeting in New Delhi ‘India wishes to see a pliant state in Bangladesh’.” (New Age, 23 June 2009) ভারতীয় কূটনীতিক ব্যক্তিটি হয়ত ঠিকই বলেছেন। ভারত দুর্বল এবং নমনীয় বাংলাদেশ রাষ্ট্র দেখতে চায়। আর এজন্যই টিপাইমুখে বাধ নির্মানের ভারতীয় ইচ্ছায় বাংলাদেশের যে বিশেষজ্ঞরা নতজানু হয়ে নমনীয়তা প্রদর্শন করছেননা তারা স্বাভাবিকভাবেই পিনাকরঞ্জনের রোষানলে পড়লেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(৩)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পিনাকরঞ্জনের ভাষায় বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা “তথাকথিত বিশেষজ্ঞ”। এক্ষেত্রে দু:খের বিষয় হল আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিনাকরঞ্জনের মন্তব্যের নূন্যতম কোন প্রতিবাদ করার প্রয়োজন উপলব্ধি করলেননা। এব্যাপারে বিভিন্ন মহল থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যারিস্টার রফিক-উল-হক রীতিমত দীপুমনিকে “খুকুমনির” সাথে তুলনা করেছেন। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে তিনি বলেছেন, “বড়ভাই আদর করে ছোট বোন খুকুমণিকে কিছু কথা শুনিয়ে দিল, আর খুকুমণি গভীর শ্রদ্ধাবোধ থেকে বড় ভাইয়ের ওই কটুক্তিকে আশীর্বাদ হিসেবে নিয়েছেন।”&lt;br /&gt;এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে পিনাকরঞ্জন শুধু বিশেষজ্ঞদের কটাক্ষ করেই থামেননি,  বরং অত্যন্ত স্পষ্টভাবে টিপাইমুখ বিরোধী তৎপরতাকে একটি দলীয় রং দেবার চেষ্ট করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের একটি গোষ্ঠী তাদের রাজনৈতিক সহযোগীদের নিয়ে বাধেঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্ট করছে। অথচ এটি সঠিক কথা নয়। তিনি যে দলের প্রতি ইংগিত করেছেন তার সাথে যারা সরাসরি বা আদর্শগতভাবে জড়িত নয় এমন লোকেরা টিপাইমুখ বাধের বিরোধীতা করছেন, যেমন ড. মোজাফফর আহমদ, ব্যারিষ্টার রফিক-উল-হক, ড. আইনুন নিশাত ইত্যাদি অতি পরিচিত ব্যক্তিত্ব। এদিকে বামপন্থী দলগুলো ও বুদ্ধিজীবী যেমন বদরুদ্দীন উমর আগাগোড়া টিপাইমুখ বাধের বিরোধীতা করছেন। মজার ব্যাপার হল স্বয়ং সরকার দলের শরীক রাশেদ খান মেনন টিপাইমুখ বাধ নিয়ে সরকারের শক্ত প্রতিবাদ করার ব্যর্থতাকে “মিউ মিউ” করা বলে অভিহিত করেছেন। ভারতের মনিপুরেও এ নিয়ে প্রতিবাদ হচেছ এবং ভারতীয় অনেক বিশেষজ্ঞরাই এর ক্ষতিকারিতা সম্পর্কে বলছেন। ফলে এটা খুব স্পষ্ট যে এটি কোন ক্ষুদ্র দল বা গোষ্ঠীর ব্যাপার নয়। এর সাথে হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত। “বন্ধুপ্রতিম”(?) দেশের কূটনীতিক হয়ে পিনাকরঞ্জন এভাবে আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ব্যাপারে ইংগিতপূর্ণ মন্তব্য করে কি অত্যন্ত অন্যায় কাজ করলেননা?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(৪)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বাংলাভিশন চ্যানেলের একটি টকশোতে একজন সাবেক মন্ত্রী পিনাকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দাবী করেন, “টিপাইমুখ বাধের অবশ্যম্ভাবী ক্ষতিকারিতা রয়েছে” এ বিষয়টি  বোঝার জন্য বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই।  এক অর্থে তিনি ঠিকই বলেছেন। কারণ কথায় বলে দেখে শিখা ঠেকে শিখার চেয়ে ভাল। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব দেখে কি আমরা শিক্ষা নিতে পারিনা? নদীতে বাধ দিলে নদী যে নিষ্ঠুরভাবে প্রতিশোধ নেয়, ইতিহাস এর স্বাক্ষী - ফারাক্কার বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে দেশ পত্রিকায় দীর্ঘ আলোচনা করতে যেয়ে এমনটিই বলছেন কল্যাণ রুদ্র। একজন “ভারতীয়” লেখকের লেখার অংশ বিশেষ পাঠকের জ্ঞাতার্থে তুলে ধরব এখানে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কল্যাণ রুদ্র লিখছেন, “নদী কি প্রতিশোধ নেয়? ...সম্ভবত আমরা নদীকে বুঝিনি একেবারেই। তাকে জয় করতে চেয়েছিল মানুষ; আজ তার আক্রোশের ঝাপটা সামলাচেছ। সামলাতেও পারছেনা, জলের তোড়ে নিশ্চহ্ন হয়ে যাওয়া গ্রামের পর গ্রাম, ছড়িয়ে ছিটিয়ে কয়েক সহস্র মৃতদেহ তার প্রমাণ।.....নদী বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারছেন নদীতে বাধ দিলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ওই বাধনের বিরুদ্ধে নদীর আক্রোশ কালক্রমে এমন রূপ নেয় যে অববাহিকার বিস্তীর্ণ অংশে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়ে ওঠে। ১৯৬০ সালে মিশরের নীল নদীর ওপর আসোয়ান বাধ তৈরীর কাজ শুরু হয়েছিল। তারপর থেকে ওখানে শুরু হয়েছে প্রকৃতির বিদ্রোহ। যে জমিতে সেচের জল দেওয়া হয়েছিল, সেই জমি আজ লবণাক্ত, উপকূলে শুরু হয়েছে ব্যপক ভূমিক্ষয়, জলাধারে সঞ্চিত হয়েছে পলি, তার ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এমন ঘটনা শুধু মিশরে নয়, পৃথিবীর নানা দেশে দেখা দিয়েছে বাধ তৈরীর পর। উন্নত দেশগুলোতে তাই কয়েকটি বাধ ভেঙ্গে দিয়ে নদীকে আবার মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  স্বাধীনতার পর তথকথিত উন্নতির লক্ষ্যে সারা ভারতে যত বৃহদাকার বাধ তৈরী হয়েছে, তার সংখ্যা ৩৩০০। বড় বড় জলাধারগুলি বহু গ্রামকে স্থায়ীভাবে প্লাবিত করেছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশনের এক সমীক্ষায় জানা গেছে প্রতিটি জলাধারের জন্য গড়ে ৪৪১৮২ জন মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে বাধের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন।...অভিযোগের আংগুল উঠেছে আমাদের ফারাক্কা ব্যারাজের দিকেও। গত কয়েক দশকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায় অন্তত ছয় লক্ষেরও বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। বহু গ্রাম, একাধিক নগর গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে গেছে। নদী তার গতিপথ বদলিয়েছে.....ফারাক্কা ব্যারেজ তৈরীর পর গত তিন দশকে ১৮৫৬ কোটি টন পলি গঙ্গাগর্ভে সঞ্চিত হয়েছে। তাই মালদহের গঙ্গা একটি অগভীর বদ্ধ জলার রূপ নিয়েছে ... ”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ড. আইনুন নিশাতের মতে, টিপাইমুখ বাধের প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের সিলেট হয়ে ভৈরব, চাদপুর পর্যন্ত এবং টিপাইমুখের কাছে ফুলপুরে ব্যারাজ নির্মাণ করলে সুরমা, কুশিয়ারা শুকিয়ে যাবে (প্রথম আলো ২৮ জুন ২০০৯)। বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এসব নদীগুলোকে কল্যাণ রুদ্রের ভাষায় “অগভীর বদ্ধ জলার” রূপে  দেখতে চাননা, এরকম দেশপ্রেমিকরাই টিপাইমুখ বাধের প্রতিবাদ করছেন। দেশের মানুষ কখনই এই বাধকে সহজভাবে মেনে নেবেনা। ভিয়েনা কনভেনশন লংঘনকারী পিনাকরঞ্জন ও তার দেশীয় কর্তাব্যক্তিরা এটি উপলব্ধি করবেন এবং হুমকি ধমকির পথ পরিহার করে, আন্তর্জাতিক আইন ও চুক্তি অনুযায়ী কাজ করবেন এটাই সকলের প্রত্যাশা।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রকাশিত: http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=959&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8651028466442247475-88092646670608579?l=adams-son.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/88092646670608579/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8651028466442247475&amp;postID=88092646670608579' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/88092646670608579'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/88092646670608579'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/2009/07/blog-post.html' title='&quot;কৃতজ্ঞতাবোধ সিনড্রম&quot; ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475.post-5498064147655273757</id><published>2009-05-08T13:39:00.000-07:00</published><updated>2009-05-08T13:42:31.880-07:00</updated><title type='text'>জয়নাব আল গাজালী :  সংগ্রামী নারীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত</title><content type='html'>[লেখাটি ২০০৫ সালের আগষ্টে জয়নব আল গাজালীর মৃত্যুর পর লিখিত এবং বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়নাব আল গাজালী আল জুবাইলী। বিশ শতকের ইসলামী জাগরণে যারা ভূমিকা রাখেন তাদের মধ্যে&lt;br /&gt;একটি অন্যতম নাম। বিশ্বব্যাপী এ জাগরণের সম্ভবত সবচেয়ে বড় ঢেউটি তুলতে সক্ষম হন হাসান আল&lt;br /&gt;বান্না। আর জয়নাব হাসান আল বান্নার নিজের হাতেই তৈরি। আর তাই তিনি ছিলেন আল বান্নার মতই&lt;br /&gt;নির্ভীক, মৃত্যুকে হাসি মুখে বরণ করে নিতে প্রস্তুত। স্বৈর শাসকের রক্তচক্ষু, নিষ্ঠুর নির্যাতন অথবা অর্থ-&lt;br /&gt;ক্ষমতার লোভ কোন কিছুই তাকে তার পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। অল্প বয়সে তিনি যে আদর্শের&lt;br /&gt;পথে পা বাড়িয়েছেন মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ছিলেন তার উপর পর্বতের মতই অবিচল। তার বক্তৃতা চুম্বকের&lt;br /&gt;মত মানুষকে আকৃষ্ট করত এবং তিনি হাজার হাজার মানুষকে বক্তৃতা দ্বারা প্রভাবিত করতে পারতেন।&lt;br /&gt;এমনকি জেলে চরম নির্যাতনের মুখে তার ক্ষুরধার সত্যভাষণে অত্যাচারীরা হতভম্ব হয়ে যেত, কখনও&lt;br /&gt;তারা হত ক্রোধে উন্মাতাল। শুধু সুবক্তাই নয়, তিনি ছিলেন সুপন্ডিত লেখিকা, একজন যোগ্য সংগঠক ও&lt;br /&gt;সমাজসেবীও বটে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়নাবের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারী মিশরের বিহারা প্রদেশের মাইতিন গ্রামে। তিনি ছোট বেলায়&lt;br /&gt;বাসায় ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি পাবলিক স্কুলে যান এবং পরে হাদিস ও ফিকাহ্ শাস্ত্রে সার্টিফিকেট&lt;br /&gt;লাভ করেন। তিনি আল আজহারের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ শেখ আলী মাহফুজ ও মোহাম্মাদ আল নাসারের&lt;br /&gt;কাছে শিক্ষা লাভ করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি এমন এক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন যার সঙ্গে হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) এর&lt;br /&gt;বংশীয় সম্পর্ক রয়েছে। তার বাবা আল আজহারে পড়াশোনা করেন। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি তুলার&lt;br /&gt;ব্যবসা করতেন। উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সাহসী যোদ্ধা নুসায়বাহ বিনতে কা’ব আল মাজিনিয়ার&lt;br /&gt;উদাহরণ দিয়ে তিনি জয়নাবকে ইসলামের অগ্রনায়ক হতে ছোটবেলা থেকেই উদ্বুদ্ধ করতেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯৩৬ সালে জয়নাব আল গাজালী নিজেই ‘জমিয়াত আল সাইয়্যেদাত আল&lt;br /&gt;মুসলিমাত’ (মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশন) নামে সংগঠন দাঁড় করান। এর আগে অবশ্য তিনি ১৯৩৫&lt;br /&gt;সালে হুদা শারাভির ‘ইজিপশিয়ান ফেমিনিষ্ট ইউনিয়ন’ এ যোগদান করেছিলেন। কিন্তু এ সংগঠনের&lt;br /&gt;দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতে না পেরে তিনি পরের বছরই এটি ত্যাগ করে নিজের সংগঠন তৈরী করেন।&lt;br /&gt;এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৯৬৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখে পৌঁছে যায়।তিনি মহিলাদের উদ্দেশ্যে&lt;br /&gt;প্রতি সপ্তাহে ‘ইবনে তুলুন’ মসজিদে বক্তৃতা করতেন, যেখানে প্রায় তিন হাজার মহিলা জমায়েত হতো।&lt;br /&gt;রমজানের সময় এ সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে যেত।&lt;br /&gt;দাওয়াহ্ এবং ইসলামী শিক্ষা প্রসারের পাশাপাশি তার এসোসিয়েশন নানা সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত&lt;br /&gt;ছিল। তারা ম্যাগাজিন বের করতো, এতিমখানা পরিচালনা করতো, দরিদ্র পরিবার গুলোকে সহায়তা&lt;br /&gt;প্রদান করতো। এছাড়া জয়নাব ওয়াক্ফ মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় ১৫ টি মসজিদ স্থাপন করেন।&lt;br /&gt;সংগঠনের ও নিজের উদ্যোগে আরো কয়েক ডজন মসজিদ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়নাব আল গাজালীর চিন্তা ও কাজ ইখওয়ানুল মুসলিমিনের প্রতিষ্ঠাতা (১৯২৮) হাসান আল বান্নার&lt;br /&gt;(১৯০৬-১৯৪৯) দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এসোসিয়েশন গঠনের ছয় মাসের মধ্যে ১৯৩৭ সালে তাদের দেখা&lt;br /&gt;হয়। তখন জয়নাব ইখওয়ানের হেডকোয়ার্টারে সমবেত মহিলাদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করতে গিয়েছিলেন।&lt;br /&gt;সে সময় হাসান আল বান্না আল ইখওয়ানের মহিলা শাখা ‘আল-আখওয়াত আল মুসলিমাত’ গঠনের&lt;br /&gt;প্রক্রিয়ায় ছিলেন। তিনি জয়নাবকে আল-আখওয়াতের নেতৃত্ব দেয়ার অনুরোধ জানান। এ প্রস্তাবের অর্থ&lt;br /&gt;ছিল ইখওয়ানের সাথে মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশনের একীভূত হয়ে যাওয়া। যদিও হাসান আল বান্নার&lt;br /&gt;সাথে তার চিন্তা চেতনার একাত্মতা ছিল কিন্তু তার পরও তিনি মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশনের স্বকীয়তা&lt;br /&gt;বজায় রাখতে চাচ্ছিলেন। ফলে জয়নাব এসোসিয়েশনের জেনারেল এ্যাসেম্বলীর সাথে পরামর্শ করে এ&lt;br /&gt;প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এ প্রসংঙ্গে মন্তব্য করতে যেয়ে ডেনিস জে সুলিমান এবং সানা আবেদ কুতুব&lt;br /&gt;‘জয়নাব আল গাজালী ঃ ইসলামিষ্ট ফেমিনিষ্ট ?’ প্রবন্ধে লিখেন, “হাসান আল বান্নার মতো নেতার প্রস্তাব&lt;br /&gt;ফিরিয়ে দেয়া থেকে বোঝা যায় জয়নাব ছিলেন স্বাধীন চেতা এবং তার লক্ষ্য উদ্দেশ্যের প্রতি একাগ্রচিত্ত&lt;br /&gt;ও নিবেদিতপ্রাণ।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অবশ্য একীভূত হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও তিনি ও তার এসোসিয়েশনের সদস্যরা বান্নার সাথে&lt;br /&gt;পরিপূর্ণ সহযোগীতা করার আশ্বাস দেন। পৃথক অস্তিত্ব থাকলেও তাঁদের মধ্যে পারষ্পারিক সহযোগীতা&lt;br /&gt;ও যোগাযোগের কোনো কমতি ছিলনা। অবশ্য বান্না সবসময়ই একত্রিত হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিতেন।&lt;br /&gt;তদুপরি ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকে।&lt;br /&gt;কিন্তু ১৯৪৮সালে আরব ইসরাইল যুদ্ধের পর ঔপনিবেশিক শক্তি ইখওয়ানকে দমন করার সিদ্ধান্ত নেয়&lt;br /&gt;এবং যে সমস্ত ইখওয়ান সদস্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল তাদের বন্দি করা হয়। ইখওয়ানকে নিষিদ্ধ করা হয়&lt;br /&gt;এবং সব তহবিল বাজেয়াপ্ত করা হয়। দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো জয়নাবকে বিচলিত করে তোলে।&lt;br /&gt;তিনি হাসান আল বান্নার প্রস্তাবের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। জয়নাবের নিজের ভাষায় “ইখওয়ানকে নিষিদ্ধ&lt;br /&gt;ঘোষণার পরবর্তী দিনই আমি দলের কেন্দ্রিয় দফতরে আমার নির্দিষ্ট কক্ষে উপস্থিত হই। এই সেই কক্ষে&lt;br /&gt;যেখানে আল বান্নার সাথে শেষ বার আমার আলাপ হয়েছিল ...আমি আমার কান্না চেপে রাখতে পারলাম&lt;br /&gt;না। আমার বিশ্বাস জন্মালো আল বান্নার কথাই ঠিক। তিনিই সেই নেতা, যার পেছনে কাজ করতে&lt;br /&gt;আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া উচিৎ ... আমার নিজের চাইতে আল বান্নাকে অনেক বেশি শক্তিশালী মনে&lt;br /&gt;হলো।... তার মতো এমন সাহস সকল মুসলমানের থাকা উচিৎ ...।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এর কিছুদিনের মধ্যেই জয়নাব আল গাজালী আল বান্নার সাথে দেখা করে আনুগত্যের শপথ করেন।&lt;br /&gt;হাসান আল বান্না শপথ গ্রহন করে বলেন, “তবে মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশন আপাতত যেভাবে কাজ&lt;br /&gt;করছে সেভাবেই করতে থাকুক।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বান্না তার উপর প্রথমেই আল নাহাসের সাথে মধ্যেস্থতা করে দেয়ার দায়িত্ব দেন। মুস্তফা আল নাহাস&lt;br /&gt;(১৮৭৬ - ১৯৬৫) ন্যাশনালিষ্ট ওয়াফ্দ পাটির নেতা ছিলেন। ১৯৫২ এর পট পরিবর্তনের আগ পর্যন্ত&lt;br /&gt;তিনি মিশরের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হন। তার সাথে&lt;br /&gt;জয়নাব নিজের পরিচয় সূত্রকে কাজে লাগিয়ে ইখওয়ানের সাথে ওয়াফ্দ পাটির যোগাযোগ স্থাপনের&lt;br /&gt;গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আনুগত্যের শপথ নেয়ার ঘটনার অল্প কিছুদিন পরই আল বান্নার হত্যাকান্ড (১৯৪৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী&lt;br /&gt;) সংগঠিত হয়। বান্নার প্রতি জয়নাবের কমিটমেণ্টটি ছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ের এবং তখনও তা প্রকাশিত&lt;br /&gt;হয়নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ওয়াফ্দ পার্টির সরকার আসলে হাসান আল হুদায়বীর নেতৃত্বে ইখওয়ান পূণরায় কাজ শুরু করে। তখন জয়নাব&lt;br /&gt;তার কমিটমেণ্ট প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ উপলক্ষে তিনি আল হুদায়বীর দফতর সাজানোর জন্য&lt;br /&gt;তার ঘরের সবচেয়ে প্রিয় ফার্নিচারটি উপহার হিসেবে দেন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আব্দুল কাদির&lt;br /&gt;আওদাহ জয়নাবের সাথে সাক্ষাৎ করে তার উপহারের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, “এটা আমাদের&lt;br /&gt;আনন্দিত করবে যদি জয়নাব আমাদের একজন হয়ে যান।” জবাবে জয়নাব বলেন, “আমি আপনাদের&lt;br /&gt;একজন হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি।” আব্দুল কাদির আওদাহ বলে উঠেন, “আলহামদুলিল-াহ আপনি&lt;br /&gt;ইতোমধ্যেই আমাদের একজন।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইখওয়ানে আনুষ্ঠানিক যোগদানের পরও অবশ্য জয়নাব তার মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশনের কাজ&lt;br /&gt;আলদা ভাবেই বজায় রাখেন এবং ১৯৬৪ সালে নাসের সংগঠনটি নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত এর কাজ&lt;br /&gt;এভাবেই চলতে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়নাব আল গাজালী ১৯৫৪ সালের পর ইখওয়ানের সংকটকালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন&lt;br /&gt;করেন। ৫৪ সালে তৎকালিন প্রেসিডেণ্ট জামাল আব্দুন নাসের ইখওয়ানের সমস্ত বড় বড় নেতাকে&lt;br /&gt;গ্রেফতার করে। একটি লোক দেখানো বিচারের পর সবচেয়ে যোগ্য নেতাদের মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।&lt;br /&gt;মৃত্যুদন্ড প্রাপ্তদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুজন হচ্ছেন আব্দুল কাদির আওদাহ এবং শেখ মুহাম্মদ&lt;br /&gt;ফারগিল। হাসান আল বান্নার মৃত্যুর পর যে বিশাল শূণ্যতা তৈরী হয়েছিল তা পূরনে এদুজন সবচেয়ে&lt;br /&gt;সক্ষম ছিলেন। কেননা তারা যোগ্যতা ও গুনের দিক থেকে হাসান আল বান্নার খুব কাছাকাছি ছিলেন।&lt;br /&gt;তাদের মৃত্যুদন্ড ইখওয়ানের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল। মুর্শীদে আম ( সর্বোচ্চ নেতা ) হাসান আল&lt;br /&gt;হুদায়বিরও মৃত্যুদন্ড দিয়েছিল নাসের। ঘটনাক্রমে তার হার্ট এটাক হওয়ায় তিনি মৃত্যুদন্ড এড়াতে সক্ষম&lt;br /&gt;হন। কিন্তু তিনি মুক্ত হওয়ার পর বয়স এবং শারিরীক অসুস্থার জন্য পুরোপুরি নেতৃত্ব দানের অবস্থায়&lt;br /&gt;ছিলেন না। ফলে সূচনার পর থেকে এই প্রথম সত্যিকার অর্থে ইখওয়ান সাংগঠনিক ও নেতৃত্বের সংকটে&lt;br /&gt;পড়ে যায়। আর ঠিক এই ক্রান্তিলগ্নে ক্রিটিকাল ভূমিকা পালন করেন সাইয়্যেদ কুতুব, জয়নাব আল&lt;br /&gt;গাজালী এবং আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল। সাইয়্যেদ কুতুব জেলের ভেতর থেকে গাইড হিসেবে কাজ করেন&lt;br /&gt;আর বাহিরে থেকে জয়নাব আল গাজালী এবং আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল, মুর্শীদে আম হাসান আল&lt;br /&gt;হুদায়বির সম্মতিতে সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৩৬ সাল থেকেই জয়নাব মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন এবং নানা সামাজিক&lt;br /&gt;কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। ফলে তিনি ইতিমধ্যেই সামাজিক ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়েছিলেন এবং সমাজের&lt;br /&gt;প্রতিটি স্তরেই তিনি ভালবাসা ও সম্মানের পাত্র ছিলেন। তার ব্যাপক প্রভাবের বিষয়টি ভালমতই বুঝতে&lt;br /&gt;পারেন আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল এবং ইখওয়ানের পূনর্গঠনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য তিনি&lt;br /&gt;জয়নাবকে খুজে বের করেন। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৯৫৭ সালে সুয়েজ বন্দরে হজ্বে যাওয়ার পথে।&lt;br /&gt;পরবর্তীতে তাঁরা কাবা ঘরের দরজা (আল মুলতাজিম) কে সামনে রেখে প্রথম আলোচনায় বসেন।&lt;br /&gt;সেখানে তারা ইখওয়ানের পূনর্গঠনে সার্বিকভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৫৮ সালের শুরুর দিকে আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈলের সাথে জয়নাবের নিয়মিত যোগাযোগ হতে&lt;br /&gt;লাগলো। তারা পূনর্গঠনের কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতেন। তারা বুঝতে পারলেন যে এমন&lt;br /&gt;একটি প্রোগাম হাতে নেয়া প্রয়োজন যাতে মুসলমানেরা তাদের আক্বীদায় ফিরে আসে। তাদের পরিকল্পনা&lt;br /&gt;ছিল শিক্ষাদানের মাধ্যমে তরুন-যুবকদের মন গঠন করা। এজন্য তারা গবেষনা করে কতকগুলো বইয়ের&lt;br /&gt;তালিকা তৈরী করেন। যারা এই কাজের জন্য প্রস্তুত তাদেরকে খুঁজে বের করে একত্রিত করার পরিকল্পনা&lt;br /&gt;করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাসান আল হুদায়বি অনুমতি দিলে তারা প্রাথমিক কাজ শুরু করেন। এ উপলে আব্দুল ফাত্তাহ&lt;br /&gt;ইসমাঈল সারা মিশর (জেলা, শহর, গ্রাম) সফরে বের হন। আব্দুল ফাত্তাহর পাঠানো রিপোর্ট নিয়ে&lt;br /&gt;জয়নাব হাসান আল হুদায়বির সাথে দেখা করতে যেতেন। জয়নাব কোনো সমস্যার দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ&lt;br /&gt;করলে হাসান আল হুদায়বি বলে উঠতেন, “পেছনে না তাকিয়ে কাজ চালিয়ে যাও। মানুষের পদবী বা&lt;br /&gt;খ্যাতির দ্বারা প্রভাবিত হবে না। কারণ তোমরা একদম শুরু থেকে নতুন একটি কাঠামো তৈরী করতে&lt;br /&gt;যাচ্ছ।” ১৯৫৯ সালে সম্পূর্ণ গবেষণা শেষ করে জয়নাব তাদের ‘এডুকেশনাল প্রোগামকে ’ চূড়ান্ত রূপ&lt;br /&gt;দেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৬২ সালে জয়নাব এবং ফাত্তাহ সাইয়্যেদ কুতুবের সাথে জেলে যোগাযোগ করতে সমর্থ হন। তাদের&lt;br /&gt;নির্ধারণ করা বইয়ের তালিকাটি সাইয়্যেদ কুতুবকে দেন। সাইয়্যেদ তালিকার ব্যাপারে পরামর্শ দেন এবং&lt;br /&gt;তার একটি বইয়ের কিছু অংশ দেন, যেটি তিনি জেলে বসে লিখছিলেন। পরে বইটি ‘মা’লিম ফিততারিক’&lt;br /&gt;(ইংরেজীতে ‘মাইলষ্টোন’ এবং বাংলায় ‘ইসলামি সমাজ বিপ্লবের ধারা’) নামে প্রকাশিত হয়।&lt;br /&gt;পর্যাক্রমে তারা বইটি তাদের পরিচালিত স্টাডি সার্কেলে পাঠ করেন। অল্প সময়ে তারা স্টাডি সার্কেলের&lt;br /&gt;মাধ্যমে একটি ব্যাপক সাড়া তৈরি করতে সক্ষম হন। সাইয়্যেদ কুতুবের পরামর্শে তারা ঠিক করেন এ&lt;br /&gt;ধরনের স্টাডি সার্কেল তারা তের বছর চালাবেন। যদি ৭৫ ভাগ মানুষ ইসলামের পক্ষে মত দেয় তবে&lt;br /&gt;তারা ইসলামী রাষ্ট্রের ডাক দেবেন। আর যদি এর চেয়ে কম মানুষ মত দেয় তাহলে তারা স্টাডি সার্কেল&lt;br /&gt;আরও তের বছর চালাবেন এবং আবার জরিপ করবেন। এভাবে চলতে থাকবে। ’৫৪ সালে ইখওয়ানের&lt;br /&gt;উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কারণে তারা তাদের এই তৎপরতা গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও এতে&lt;br /&gt;কোনো ধংসাত্মক বা ষড়যন্ত্রমূলক কিছুই ছিলনা, তার পরও তাদের কাজ দ্রুত প্রেসিডেণ্ট জামাল আব্দুন&lt;br /&gt;নাসেরের রোষানলে পড়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৬৫ সালের ফেব্রুয়ারীতে জয়নাবকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। একটি গাড়ী এসে ধাক্কা দিলে তিনি&lt;br /&gt;মারাত্মক আহত হন। তার উরুর হাড় ভেঙ্গে যায়। হত্যা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নাসের বিভিন্ন ভাবে&lt;br /&gt;জয়নাবকে প্রলোভিত করে, হুমকি দিয়ে তাকে তার কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু জয়নাব&lt;br /&gt;ছিলেন তার কাজে অবিচল, নির্ভীক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৬৫ সালের আগষ্টে নাসের আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। জয়নাবের নিজের ভাষায়, “বস্তুত: ওরা মনে&lt;br /&gt;করেছিল আমাদের এটা ভাববাদী আন্দোলন। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন কারারুদ্ধ নেতা জনাব সাইয়্যেদ&lt;br /&gt;কুতুব। আর বাইরে এর বাস্তব অনুশীলন করছেন আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল এবং জয়নাব আল গাজালী&lt;br /&gt;।... এমন সময় আমরা অত্যন্ত বিশ্বস্ত সূত্রে এ তথ্য পাই যে, ইখওয়ানুল মুসলিমীন এবং তার সব&lt;br /&gt;তৎপরতাকে অবিলম্বে খতম করার জন্য মার্কিন ও সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা প্রেসিডেণ্ট নাসেরকে একটি&lt;br /&gt;রিপোর্ট হস্তান্তর করে। রিপোর্টে শংকা প্রকাশ করা হয় যে, অবিলম্বে ইখওয়ানকে স্তব্ধ না করলে নাসের&lt;br /&gt;সরকার জনগণকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে আনার ব্যাপারে যে সাফল্য অর্জন করেছে তা ধূলিসাৎ হয়ে&lt;br /&gt;যাবে। ... ১৯৬৫ সালের আগষ্ট মাসের গোড়ার দিকে আমি খবর পাই যে, অবিলম্বে যাদের গ্রেফতার&lt;br /&gt;করা হবে তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকার কয়েকজন হচ্ছে - সাইয়্যেদ কুতুব, জয়নাব&lt;br /&gt;আল গাজালী, আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল এবং মোহাম্মদ ইফসুফ হাওয়াস”।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আগষ্টেই নাসের লাখ লাখ ইখওয়ান নেতা কর্মী গ্রেফতার করে এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৬৫ সালের ২০&lt;br /&gt;আগষ্ট জয়নাব আল গাজালী গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের কারণ হিসেবে নাসেরকে ‘হত্যা প্রচেষ্টা’র&lt;br /&gt;ষড়যন্ত্রের কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু ইখওয়ানের প্রতি নাসেরের ক্রোধের আসল কারণ আগেই উল্লেখ&lt;br /&gt;করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জয়নাব আরও লিখেন ঃ “ নাসের নাস্তিক্যবাদ ও অশ্লীল ছায়াছবি, পত্র পত্রিকা&lt;br /&gt;আমদানী করে দেশের নবীন বংশধরদের চরিত্র হননের আপ্রাণ চেষ্টা করে... । ইসলামী আন্দোলনে&lt;br /&gt;তরুনদের প্রধান ভূমিকা দেখে নাসের ক্ষেপে পাগল হয়ে পড়ে। সে তার সাঙ্গ পাঙ্গদের প্রায়ই বলতো, “&lt;br /&gt;জয়নাব আল গাজালী এবং আব্দুল ফাত্তাহ ইসমাঈল তরুন সম্প্রদায়কে আমার হাত থেকে কেড়ে&lt;br /&gt;নিয়েছে।” নাসেরের এই স্বীকৃতি আমাদের জন্য গৌরবের কথা। তার র্নিলজ্জ কঠোর থাবা থেকে আমরা&lt;br /&gt;তরুন সম্প্রদায়কে বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছি ।... এমন তরুন বাহিনী সৃষ্টি করে দিয়েছি, যারা যুগের&lt;br /&gt;যে কোন হুযুগের মোকাবেলায় ইসলামের ঝান্ডাকে বুলন্দ রাখতে সক্ষম।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গ্রেফতারের পর জয়নাবকে সামরিক কারাগারে নেয়া হয় এবং সেখানে তিনি জঘন্যতম নির্যাতনের&lt;br /&gt;সম্মূখীন হন। এ নির্যাতনের কাহিনী তিনি বর্ণনা করেন তার ‘আইয়্যাম মিন হায়াতি’ বইতে (বইটি&lt;br /&gt;ইংরেজীতে ‘Return of the pharaoh’ এবং বাংলায় ‘কারাগারের রাতদিন’ নামে অনুদিত হয়)।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কারাগারে নেয়ার পর শুরুতেই তাকে হিংস্র ক্ষুধার্ত কুকুর ভর্তি একটি সেলে ঢুকিয়ে তিন ঘণ্টা বন্দী রাখা&lt;br /&gt;হয়। সেখান থেকে বের করে তাকে ৬ দিন একটি সেলে বন্দী রাখা হয়। জয়নাব এ প্রসঙ্গে লিখেন “২০&lt;br /&gt;আগষ্ট থেকে ২৬ আগষ্ট পর্যন্ত বরাবর ৬ দিন একই কক্ষে আবদ্ধ থাকি। এর মধ্যে একটি বারও করে&lt;br /&gt;দরজা খোলা হয়নি। এক ফোটা পানি বা কোনো রকমের খাদ্য দেয়া হয়নি। বাইরের কারো সাথে&lt;br /&gt;যোগাযোগ বা কথাবার্তাও হয়নি। পানি নেই, খাদ্য নেই, কথাবার্তা নেই - ৬ দিন, ৬ রাত অন্ধকার কক্ষে&lt;br /&gt;একাকীত্বের এই জীবন, একটু কল্পনা করে দেখুন তো! পানাহার নাইবা হলো কিন্তু মানুষের প্রাকৃতিক&lt;br /&gt;প্রয়োজন পূরণকে কেউ কিভাবে অস্বীকার করতে পারে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জয়নাব বলেন, নাসেরের নির্দেশে তাকে যে কোনো পুরুষের চাইতেও কঠিন নির্যাতন করা হয়। এক&lt;br /&gt;সময় জয়নাবের সেলেই আরও দুজন মহিলাকে বন্দী করে রাখা হয়। তারা হচ্ছেন আলীয়া হুদায়বী&lt;br /&gt;(মুর্শীদে আম হাসান আল হুদায়বীর কন্যা) এবং গা’দা আম্মার। তারা জয়নাবের অবস্থা দেখে আৎকে&lt;br /&gt;ওঠে। জয়নাব তার বইয়ে বর্ণনা করেন, “ আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বললামঃ ‘গা’দা আমার মেয়ে!&lt;br /&gt;(জয়নাব নিঃসন্তান ছিলেন কিন্তু তার কর্মী তরুন-তরুনীদের তিনি ছেলে ও মেয়ে সম্বোধন করতেন)&lt;br /&gt;আমাকে চিনতে পারছিস না?’ সে বললঃ ‘না... আপনার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।’ ... আমি সান্ত্বনা&lt;br /&gt;দিয়ে বললামঃ ‘... এমন হওয়াই স্বাভাবিক।... রাতে দিনে চব্বিশ ঘণ্টায় খাদ্য হিসেবে পাই শুধু এক&lt;br /&gt;চামচ সালাদ। তাও একজন সিপাহী লুকিয়ে দিয়ে যায়।’... একটু পরে তারা হাণ্টারের দগদগে ঘা দেখে&lt;br /&gt;আৎকে উঠে। ... আমি পবিত্র কোরআনের ‘আসহাবুল উখদুদ’ সংক্রান্ত আয়াত পড়ে শুনাই। গা’দা&lt;br /&gt;আম্মার নিরবে কাঁদতে থাকে আর আলীয়া বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে স্বগত প্রশ্ন করেঃ ‘মহিলাদের সাথেও এমন&lt;br /&gt;নির্মম নিষ্ঠুর ব্যবহার কিভাবে সম্ভব হলো? কোন্ বন্য নৃশংসতার নিদর্শন এসব’.... কিন্তু আলীয়া হয়তো&lt;br /&gt;কল্পনা করতে পারেনি ইসলাম ও মানবতার দুশমন জামাল নাসেররা আল্লাহ ও তার রাসূলের শত্রুতায়&lt;br /&gt;এর চেয়েও নিচে নামতে পারে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তাদের নিচতার নমুনা পাওয়া যায় সামরিক কারাগারে শামস্ বাদরান নামে এক লোকের বন্য অত্যাচারের&lt;br /&gt;বিবরণ থেকে। জয়নাব বর্ণনা করেন, “সাফওয়াত ... আমাকে শামস্ বাদরানের অফিসে নিয়ে যায়।&lt;br /&gt;জানেন, কে এই শামস্ বাদরান? নির্দয়-নিষ্ঠুর পশুর চেয়েও অধম এক দুশ্চরিত্র ব্যক্তি .. জুলুমের ভয়ংকর&lt;br /&gt;রেকর্ড সৃষ্টি করেছে । আমি পৌঁছলে সে অত্যন্ত দম্ভ এবং তাচ্ছিলের সাথে জিজ্ঞেস করলো -&lt;br /&gt;ঃ জয়নাব আল গাজালী ! তুই এখনো বেঁচে আছিস?&lt;br /&gt;ঃ হ্যাঁ। ধীর শান্ত কণ্ঠে একই শব্দে জবাব দিলাম আমি।...&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;ঃ সাইয়্যেদ কুতুবের পেশা কি? সে জিজ্ঞেস করলো।...&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;... স্পষ্ট উচ্চারণ করে ধীরে ধীরে বল্লাম -&lt;br /&gt;ঃ অধ্যাপক সাইয়্যেদ কুতুব নেতা এবং শিক্ষক, ইসলামী চিন্তা নায়ক, লেখক ...&lt;br /&gt;সে জল্লাদের দিকে নীরব ইঙ্গিত করলে জল্লাদরা তাদের চাবুক ও হাণ্টার নিয়ে আমার উপর ঝাপিয়ে&lt;br /&gt;পড়ে। অনেকণ মার-পিট চলার পর সে আবার প্রশ্ন করলো -&lt;br /&gt;ঃ এই মেয়ে ! হুদায়বীর পেশা কি?&lt;br /&gt;আমি জবাব দিলাম -&lt;br /&gt;ঃ অধ্যাপক হাসান হুদায়বী মুসলমানদের নেতা ইমাম।...&lt;br /&gt;আমার কথা শেষ হবার আগেই চাবুক আর হাণ্টার আমার পিঠে আগুন জ্বালাতে শুরু করলো।&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;... ‘মা’লিম ফিত-তারিক’ থেকে তুমি কি শিক্ষা পেয়েছ?&lt;br /&gt;এবার গাম্ভীর্যের সাথে বললাম -&lt;br /&gt;ঃ ‘মা’লিম ফিত-তারিক’ মুফাস্সির ও সাহিত্যিক সাইয়্যেদ কুতুবের বিখ্যাত গ্রন্থ এতে তিনি... (এরপর&lt;br /&gt;জয়নাব পুরো বইয়ের সার সংপে বর্ণনা করেন।)&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;আমার কথা শুনে কয়েক মূহুর্ত সবাই নিরব নিশ্চুপ বসে রইলো। ... মন্তব্য করলো -&lt;br /&gt;ঃ এ দেখছি ভাল বাগ্মী , চমৎকার বক্তৃতা করতে পারে। অপর একজন বলল-&lt;br /&gt;ঃ তা ছাড়া সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকও। এরপর সে ... আমার সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকার&lt;br /&gt;সম্পাদকীয় থেকে একটি অংশ পড়ে শোনালো। কিন্তু শামস্ বাদরানের এসব ভাল লাগছিলনা । সে ...&lt;br /&gt;বললো, এ মেয়েটির কোনো কথায়ই মাথায় ঢোকেনা । তার এই কথার সাথে সাথেই জল্লাদরা তাদের&lt;br /&gt;চাবুক নিয়ে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো।...&lt;br /&gt;এরপর আমাকে লক্ষ্য করে বললো&lt;br /&gt;ঃ ... লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ... তার তাৎপর্য জানতে চাই ।&lt;br /&gt;আমি বললাম-&lt;br /&gt;... ...&lt;br /&gt;সে চেঁচিয়ে বললো&lt;br /&gt;ঃ বন্ধ কর এসব বাজে কথা। এর সাথে সাথেই তার পোষ্য পশুরা আমার উপর হাণ্টার আর চাবুক বর্ষাতে&lt;br /&gt;শুরু করলো।&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;ঃ আমাদের ব্যাপারে তোমার কী মন্তব্য। আমরা মুসলিম না কাফের?&lt;br /&gt;আমি বল্লাম -&lt;br /&gt;ঃ নিজেকে কোরআন ও সুন্নাহর কষ্টি পাথরে রেখে পরখ করে দেখ...&lt;br /&gt;আমার কথা শুনে শামস্ বাদরান রাগে ফেটে পড়লো ... অশ্লীল গালাগালি শুরু করে... হিংস্র পশুর মত&lt;br /&gt;হাফাতে লাফাতে লাগলো ... সাফওয়াতের দিকে চেয়ে বল- -&lt;br /&gt;মারধরেও এ কাবু হবে না দেখছি ; একে উল্টো করে লটকিয়ে দাও ।&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;..মোটা রড এবং কাঠের দু'খানা ষ্ট্যান্ড .. হাজির হল ...&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;শামস্ বাদরান আমাকে লটকানোর কাজে লোকদের এমন ভাবে হুকুম চালাচ্ছিল যেন রণাঙ্গনে সৈন্য&lt;br /&gt;পরিচালনা করছে।&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;... হেঁকে বলল - সাফওয়াত, একে পাঁচশ বেত্রাঘাত কর। এর সাথে সাথেই শুরু হল সেই নৃশংস&lt;br /&gt;অত্যাচারের তান্ডব লীলা। তারা কে কার চেয়ে বেশী পেটাতে পারে, তারই যেন প্রতিযোগিতা চলছিল।&lt;br /&gt;এমন সম্মিলিত প্রহারে আমার ব্যাথা যন্ত্রনা যে কী পরিমানে বেড়েছিল তা অনুমেয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও এসব&lt;br /&gt;পশুদের সামনে নিজের দুর্বলতা প্রদর্শন করিনি। ... চাবুকের ত্রস্ত ঘা সহ্য করে ... আল্লাহর নাম স্মরণ&lt;br /&gt;করে অন্তরের প্রশান্তি খুঁজছিলাম। কিন্তু ব্যথা-বেদনা যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করলো, তখন আর&lt;br /&gt;নিরবে সয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। ... ইয়া আল্লাহ - ইয়া আল্লাহ ধ্বনি তুলছিলাম।...&lt;br /&gt;অচেতন হওয়া পর্যন্ত শুধু আল্লাহকেই ডাকতে থাকি। বেহুশ হয়ে প্রাণহীন দেহের মতো মাটিতে পড়ে&lt;br /&gt;যাই। ওরা আমাকে দাঁড় করিয়ে আবার লটকানের চেষ্টা করছিল। কিন্তু পারলনা। দাঁড়নোর মতো&lt;br /&gt;বিন্দুমাত্র শক্তিও অবশিষ্ট ছিলনা। ... আমি যন্ত্রনার আতিশর্যে দেয়ালের সাথে হেলান দেয়ার চেষ্টা করলে&lt;br /&gt;সাফওয়াত চাবুক মেরে দূরে সরিয়ে দেয়। আমি এবার অনন্যোপায় হয়ে বললাম-&lt;br /&gt;ঃ আমাকে একটু মাটিতে বসতে দাও। এর জবাবে শামস্ বাদরান বল-&lt;br /&gt;ঃ মোটেই বসতে দেয়া হবে না। কোথায় তোর আল্লাহ! ডাকতো দেখি, তোকে আমাদের হাত থেকে&lt;br /&gt;বাঁচানোর জন্য। কিন্তু এর পরিবর্তে আব্দুন নাসেরকে ডেকে দেখ কী লাভ হয় । ... চুপ করে থাকি। সে&lt;br /&gt;আস্ফালন করে বল-&lt;br /&gt;ঃ আমাকে বল দেখি, এখন তোর আল্লাহ কোথায়?&lt;br /&gt;... আবার চেঁচিয়ে বল্ল-&lt;br /&gt;ঃ কোথায় তোর আল্লাহ? জবাব দে!&lt;br /&gt;এবার আমি অশ্রু ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বল্লাম-&lt;br /&gt;ঃ আল্লাহ পাক সর্বশক্তিমান এবং উত্তম ব্যাবস্থাপক। এরপর আমাকে শামস্ বাদরানের অফিস থেকে&lt;br /&gt;সোজা হাসপাতালে পাঠানো হয়।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটা ছিল মাত্র একটি দিনের নির্যাতনের বর্ণনা। দিনের পর দিন তাকে একই রকম নির্যাতন সহ্য করতে&lt;br /&gt;হয়। তাকে খাবারও দেয় হতো খুব সামান্য। যা দেয়া হতো তাও প্রচন্ড দুর্গদ্ধযুক্ত এবং খাবার অযোগ্য।&lt;br /&gt;প্রতিবার তাকে তদন্তের নামে অর্থহীন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হতো এবং মিথ্যা স্বীকাররোক্তি দেবার জন্য&lt;br /&gt;হুমকি, ধমকি দেয়া ছাড়াও নানা প্রলোভন দেখানো হতো। তাদের কথা শুনলে তাকে মন্ত্রিত্ব দেবার&lt;br /&gt;লোভও দেখাতো তারা। কিন্তু জয়নাব সকল কিছুর মোকাবেলায় ছিলেন দৃঢ়, অবিচল। মিথ্যা স্বীকারোক্তি&lt;br /&gt;দিতে বা সত্য থেকে বিচ্যুত হতে তিনি কোনো ভাবেই রাজী হতেন না। আর তখনই তার উপর নেমে&lt;br /&gt;আসতো অমানুষিক নির্যাতন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কখনো তাকে ৫ দিন এমন কী ১০ দিনের জন্য পানির সেলে রাখা হতো। সেখানে গলা পর্যন্ত পানিতে&lt;br /&gt;ডুবিয়ে অনড় অবস্থায় বসে থাকতে বাধ্য করা হতো। চাবুকের ক্ষতগুলোতে পানির পরশ লাগায় যন্ত্রণা&lt;br /&gt;অনেকগুন তীব্র হয়ে যেত। পানির সেলে হেলান দেয়া, ঘুমানো বা নড়া কোনোটাই সম্ভব হতো না। সে&lt;br /&gt;এক অবর্ণনীয় দুর্দশা! কখনো আবার ইঁদুর ভর্তি সেলে নেয়া হতো। কখনো মানুষ এবং কুকুরকে&lt;br /&gt;একসাথে লেলিয়ে দেয়া হতো তার উপর ঝাপিয়ে পড়তে। তারপর হয়তো নেয়া হতো আবার পানির&lt;br /&gt;সেলে কিংবা নিকৃষ্ট শামস্ বাদরানের অফিসে। শামস্ বাদরান দফায় দফায় উল্টো ভাবে ঝুলিয়ে পাঁচশ&lt;br /&gt;করে চাবুক লাগাতো। অচেতন হয়ে গেলে সেখান থেকে হাসপাতালে পাঠানো হতো। চেতনা ফিরলে&lt;br /&gt;আবার নিয়ে আসা হতো এবং ব্যান্ডেজ মোড়া সারা শরীরে চাবুক চালানো হতো, তার পা থেকে রক্ত আর&lt;br /&gt;পুঁজ গড়িয়ে পড়তো। হাসপাতালে পাঠানোর উদ্দেশ্য ছিল আসলে আরো নির্যাতন করার জন্য কিছুটা সুস্থ&lt;br /&gt;করে তোলা। জয়নাব লিখেন এভাবে কতবার হাসপাতালে গেছি আর বেরিয়েছি এবং অজ্ঞান-অচেতন&lt;br /&gt;হয়ে পূণরায় জ্ঞান-চেতনা ফিরে পেয়েছি তার সঠিক হিসেব তুলে ধরা কঠিন।” প্রতি মুহুর্তেই অশ্রাব্য&lt;br /&gt;গালিগালাজ আর বুটের অজস্র লাথি ছিল খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। দিনের পর দিন এভাবেই চলতে থাকে।&lt;br /&gt;এই নিকৃষ্ট নির্যাতনের চিত্রটি ভাষার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই কঠিন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এখানে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে, এই নির্যাতনের মুখে তিনি টিকে থাকলেন কীভাবে? ভাবলে এটা&lt;br /&gt;সত্যিই অবিশ্বাস্য মনে হয়। একমাত্র আল্লাহর অনুগ্রহেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে জয়নাব বর্ণনা করেন।&lt;br /&gt;তিনি বলেন, আল্লাহর স্মরণই অসহনীয় যন্ত্রনা থেকে তার চেতনাকে পৃথক করে দিত। যন্ত্রনার মধ্যে&lt;br /&gt;কোরআন পাঠ তাকে শান্তি দিত। এসব দিন গুলোতে তিনি রাসূল (সা.) কে চারবার স্বপ্নে দেখেন।&lt;br /&gt;জয়নাব বলেন, এসব স্বপ্ন তাকে অপূর্ব এক শক্তি এবং প্রশান্তি দান করতো। এটা তাকে বর্তমানের সব&lt;br /&gt;জুলুম নির্যাতনের ভাবনা থেকে র্নিলিপ্ত উদাসিন করে দিতো।&lt;br /&gt;শেষ পর্যন্ত ১৯৬৬ সালের ১৭ মে একটি লোক দেখানো বিচারের পর, নাসেরকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ&lt;br /&gt;এনে জয়নাব আল গাজালীকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয়া হয়। সেই সঙ্গে সাইয়্যেদ কুতুব, আব্দুল&lt;br /&gt;ফাত্তাহ ইসমাঈল এবং মোহাম্মদ হাওয়াসকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, বিচার চলা কালিন সময়ে এবং দন্ড দেওয়ার পরও জয়নাবের উপর নির্যাতন&lt;br /&gt;এবং দুর্ব্যবহার অব্যাহত থাকে। জয়নাব এ প্রসংঙ্গে লিখেন, “ ... অন্ধকার যুগের কোরাইশরা পর্যন্ত&lt;br /&gt;মুসলমানদের বিরুদ্ধে এমন জঘন্য অসৎ আচরণ করেনি। সত্যিই করেনি। ইতিহাস সাক্ষী। ”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আনওয়ার এল সা’দাত ক্ষমতায় এলে ১৯৭১ সালের ১০ আগষ্ট জয়নাব মুক্তি পান।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ইখওয়ানের পূনর্গঠন তৎপরতায় অংশগ্রহন এবং মুসলিম ওমেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেণ্ট হিসেবে কাজ&lt;br /&gt;করতে যেয়ে তিনি যে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালন করেননি তা নয়। অবশ্য তাকে বাড়ীর বাইরের&lt;br /&gt;কাজে অনেক সময় কাটাতে হতো এবং এসব তৎপরতায় তিনি ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। এজন্য তিনি&lt;br /&gt;বিয়ের আগে স্বামীর সাথে একটি চুক্তি করেন। প্রথম স্বামী চুক্তি ভঙ্গ করায় শর্ত অনুযায়ী তিনি তালাক&lt;br /&gt;নেন।তার দ্বিতীয় স্বামী মুহাম্মদ সালেমের প্রতিও তিনি বিয়ের আগে একই শর্ত আরোপ করেন। তিনি&lt;br /&gt;বলেন, “আমার জীবনে এমন কিছু আছে যা তোমার জানা দরকার ... আমি মুসলিম ওমেন্স&lt;br /&gt;এসোসিয়েশনের সভানেত্রী।... আমি ইখওয়ানের নীতির প্রতি আস্থাশীল।... যদি কখনো এমন হয় যে,&lt;br /&gt;তোমার ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আমার ইসলামী কাজের সাথে দন্দ্ব তৈরী করে অথবা&lt;br /&gt;আমাদের দাম্পত্য জীবন যদি আমার ‘দাওয়াহ্’র পথে বাঁধা সৃষ্টি করে, তবে আমরা পৃথক হয়ে যাব।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;স্বামীর সাথে চুক্তি করার বিষয়টি নেতিবাচক ভাবে ব্যাখ্যা করার কোনো অবকাশ নেই। ইসলামের&lt;br /&gt;দৃষ্টিতেও এটি অসমীচীন নয়। কারণ ইসলামে অন্যায় নয় এমন যে কোনো চুক্তি বৈধ। নিজের যোগ্যতার&lt;br /&gt;উপর জয়নাবের আত্মবিশ্বাস ছিল এবং তিনি বিনা বাধায় কাজ করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু সমাজে নারীর&lt;br /&gt;ভূমিকার ব্যপারে ধারণাগত ভ্রান্তি থাকায় তিনি ব্যাপারটি আগে থেকেই পরিষ্কার রাখতে চাচ্ছিলেন। আর&lt;br /&gt;এটা করা তার জন্য সহায়কই হয়েছে।&lt;br /&gt;তার স্বামী একজন উন্নত চরিত্রের মানুষ ছিলেন এবং তিনি সবসময় জয়নাবের কাজের প্রতি সমর্থন&lt;br /&gt;জানাতেন। কিন্তু যখন তাদের গোপন এডুকেশন প্রোগ্রামটি সরকারের রোষানলে পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়,&lt;br /&gt;তখন তিনি জয়নাবের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েন এবং এ ব্যপারে জয়নাবকে প্রশ্ন করেন।&lt;br /&gt;জয়নাব তখন তাদের চুক্তির কথা মনে করিয়ে দেন এবং কোনো প্রশ্ন তোলা থেকে বিরত থাকতে বলেন।&lt;br /&gt;শংকা সত্ত্বেও এরপর তার স্বামী অবশ্য আর কোনো প্রশ্ন তোলেননি। বরং তার প্রতি সর্বোচ্চ সহায়তা&lt;br /&gt;অব্যাহত রাখেন। এ প্রসংঙ্গে জয়নাব তার বইয়ে ‘আমার ন্যায়নিষ্ঠ স্বামী’ শিরণামে লিখেন ঃ “এরপর&lt;br /&gt;আমাদের তৎপরতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। দিন রাত কর্মীদের যাতায়াত এবং গতিবিধিতে আমাদের বাড়ী&lt;br /&gt;সরগরম হয়ে থাকে। এমনকি মধ্যরাতে যদি কেউ এসে দরজায় কড়া নাড়ে তো আমার স্বামী উঠে গিয়ে&lt;br /&gt;আগমন কারীদের দরজা খুলে দেন। তাদেরকে সাক্ষাৎকারের কক্ষে নিয়ে যান। এরপর পরিচারিকাকে&lt;br /&gt;জাগিয়ে চা-নাস্তা তৈরীর আদেশ দিয়ে অত্যন্ত সাবধানে আমাকে জাগিয়ে বলতেন, ‘তোমার ছেলেরা&lt;br /&gt;এসেছে। তাদের চোখেমুখে শ্রান্তির ইঙ্গিত স্পষ্ট।’ আমি উঠে গিয়ে তাদের স্বাগত জানাই এবং আমার&lt;br /&gt;স্বামী ঘুমোতে যাওয়ার আগে বলে যান যে, ‘যদি ফজরের নামাজ জামায়াতের সাথে পড় তো আমাকেও&lt;br /&gt;জাগিয়ে দিও ...।’ ”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ফলে দেখা যাচ্ছে জয়নাবের মতো গ্রেট লিডারের এ ধরনের চুক্তি করা ভাল হয়েছে। নতুবা মুসলিম বিশ্ব&lt;br /&gt;হয়তো বড় একজন ব্যক্তিত্বকে হারাতো। আমাদের দেশে নারীর ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেশী।&lt;br /&gt;ফলে দেখা যায় অসংখ্য মেধাবী মেয়ে শেষ পর্যন্ত তাদের মেধাকে কাজে লাগাতে পারছেনা। তাই&lt;br /&gt;আমাদের দেশের মেয়েরা - যারা নিজেদের সমাজে কন্ট্রিবিউট করার যোগ্য মনে করে তাদেরও এ&lt;br /&gt;ধরনের চুক্তি করাটা ভাল হতে পারে।&lt;br /&gt;অনেকে জয়নাবকে ফেমিনিষ্ট বলে নিন্দা করতে চায়। এটা অন্যায়। কেননা তাকে কোনো ভাবেই&lt;br /&gt;পাশ্চাত্য ধাঁচের ফেমিনিষ্ট বলা যায় না। নারীর অধিকারের ব্যাপারে কথা বলা, সেজন্য সংগ্রাম করা কী&lt;br /&gt;ফেমিনিজম? বেগম রোকেয়াও তো নারী শিক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছেন। সেজন্য কী তাকে আমরা&lt;br /&gt;ফেমিনিষ্ট বলতে পারি?ইসলামও নারীর অধিকারের কথা বলেছে। সেই অর্থে বলা যায় ইসলামেও&lt;br /&gt;একধরণের ফেমিনিজম আছে। তবে তার ধরণটি অনেক বেশী ভিন্ন, অনেক বেশী সুন্দর। আর জয়নাব&lt;br /&gt;এ ধরণটিরই ধারক ছিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি নারীদের স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করেছেন এবং অসহায় নারীদের প্রতি হাত বাড়িয়েছেন । তিনি&lt;br /&gt;ওমেন্স এসোসিয়েশনের মধ্যমে নারীদের বিভিন্ন ধরনের স্বকর্ম সংস্থানের ট্রেনিং দিতেন। এসোসিয়েশন&lt;br /&gt;অনেক নারীর শিক্ষার সমস্ত ভার নিয়ে নিত। ১৯৫৪ সালে ইখওয়ানের উপর নির্যাতন নেমে আসার পর&lt;br /&gt;গ্রেফতারকৃত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি তার এসোসিয়েশনের মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে&lt;br /&gt;দেন। তার প্রচেষ্টা ছিল নারীদের সার্বিকভাবে তাদের দায়িত্বের প্রতি সচেতন করে তোলা। তিনি&lt;br /&gt;সমাজের প্রতি দায়িত্বের ব্যাপারে পুরুষ ও মহিলার ভূমিকায় পার্থক্য করতেন না। সূরা তাওবার ৭১ নং&lt;br /&gt;আয়াত থেকে আমরাও এরই সমর্থন পাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;১৯৮১ সালে হেলিওপলিসে তার বাসায় এক ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে জয়নাব বলেন, “ইসলাম পুরুষ ও&lt;br /&gt;নারী উভয়কেই সবকিছু দিয়েছে। ইসলাম নারীকে দিয়েছে স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও&lt;br /&gt;সামাজিক অধিকার। পরিবারে ইসলাম নারীকে যে অধিকার দিয়েছে তা অন্য কোনো সমাজে নেই। তাই&lt;br /&gt;খ্রীষ্টান, ইহুদী বা পৌত্তলিক সমাজের নারীরা হয়তো স্বাধীনতার ব্যাপারে কথা বলতে পারে, কিন্তু মুসলিম&lt;br /&gt;সমাজের মেয়েদের স্বাধীনতার কথা বলাটি একটি বড় ধরনের ভুল। এজন্য মুসলিম নারীদের ইসলাম&lt;br /&gt;সর্ম্পকে পড়াশুনা করা উচিৎ যাতে তারা জানতে পারে ইসলাম তাকে সব অধিকার দিয়েছে।”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সাত বছর নির্যাতন সহ্য করার পর ১৯৭১ সালে মুক্তি পেয়ে জয়নাব পূনরায় বক্তৃতা, লেখনী এবং&lt;br /&gt;দাওয়াহ্র কাজে সক্রিয় হয়ে উঠেন।&lt;br /&gt;তিনি জেলে থাকার সময় তার স্বামী মৃত্যু বরণ করেন। নাসেরের লোকেরা তাকে গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে&lt;br /&gt;জয়নাবকে তালাক দিতে বাধ্য করে। এই সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন বয়স্ক এবং অসুস্থ। জোর পূর্বক স্বাক্ষর&lt;br /&gt;নেয়ার পর পরই তিনি মৃত্যু বরণ করেন। জয়নাব জেলে বসে পত্রিকায় তার মৃত্যু সংবাদ পড়ে শোকে&lt;br /&gt;মূহ্যমান হয়ে পড়েন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জয়নাব বলেন, “ বিয়ের আগে আমার&lt;br /&gt;স্বামী আমার দ্বীনি ভাই ছিলেন। দাম্পত্য সম্পর্ক থেকেও সেই ঈমানের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মজবুত। তার&lt;br /&gt;সাথে আমার দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত মধুর।” বৈবাহিক দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়ায়, জেল থেকে&lt;br /&gt;বের হয়ে জয়নাব নিজেকে ইসলামের কাজে আরও বেশি সক্রিয় করে তোলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি ইখওয়ানের পত্রিকা ‘আল দাওয়াহ্’ এর একটি সেকশনের সম্পাদিকা ছিলেন। তার মুক্তির পর আল&lt;br /&gt;দাওয়াহ্ পত্রিকা পূণরায় চালু হলে তিনি সেখানে তার ক্ষুরধার লেখনী চালিয়ে যান। ১৯৮১ সালে অবশ্য&lt;br /&gt;আনোয়ার সা’দাত পত্রিকাটি আবার নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। এছাড়াও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী জার্নাল এবং&lt;br /&gt;পত্রিকাগুলোতে লিখতেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিনি সম্প্রতি তাফসিরুল কোরআনের উপর দুই ভলিউমের একটি বই লিখেন। তবে ১৯৭৭ সালে&lt;br /&gt;প্রকাশিত ‘আইয়্যাম মিন হায়াতি’ বইটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় হয় এবং ইংরেজী, উর্দু ও বাংলাসহ নানা&lt;br /&gt;ভাষায় অনুদিত হয়। এই বইটি একটি ঐতিহাসিক দলীল এবং লেখিকা নিজে মিশরের ইতিহাসের একটি&lt;br /&gt;কালো অধ্যায়ের স্বাক্ষী। বইটি পড়ে চোখের পানি সংবরণ করা সত্যিই কঠিন। বইটি সম্পর্কে ইসলামী&lt;br /&gt;ফাউন্ডেশন ইউ,কে এর ডিরেক্টর ড. মানাজির আহসান বইয়ের ভূমিকায় লিখেন, “ The book is a&lt;br /&gt;manifestation of her perseverance for the cause of Islam, her patience in the&lt;br /&gt;face of all kinds of affliction and persecution … Her qualities of head and&lt;br /&gt;heart remind us of the life and the time of many companions of the prophet&lt;br /&gt;and virtuous people in earlier generation of Muslim history.” তিনি ঠিকই&lt;br /&gt;বলেছেন। বইটি পড়ে আমাদের শুধু সাহাবী যুগের কথা মনে পড়ে তাই নয়, আমরা এও বুঝতে পারি,&lt;br /&gt;যে কোনো শতাব্দীতেই ইসলামের ধারক ও বাহকদের একই রকম ত্যাগ ও কোরবানীর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা&lt;br /&gt;সম্ভব।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ডঃ মানাজির আহসান আরও লিখেন, “the glory of Muslim Ummah has faded a little.&lt;br /&gt;It is however, the likes of Zaynab Al-Ghazali in their firmness and&lt;br /&gt;dedication who will restore it, no matter how great the sacrifice.”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সত্যিই জয়নাব আল গাজালী উম্মাহর আকাশে এক উজ্জল নক্ষত্র। ৭০ এর দশক থেকে অনেক মহিলাই&lt;br /&gt;ইসলামি মুভমেণ্টের দিকে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের তুলনায় জয়নাবের স্বকীয়তা এবং উচ্চতা খুবই&lt;br /&gt;স্পষ্ট। একটি ওয়েব সাইটে গত শতাব্দীর পাঁচজন প্রভাবশালী মুসলিম মহিলার নামের তালিকায় শিরিন&lt;br /&gt;এবাদির পর দ্বিতীয়তেই জয়নাব আল গাজালীর নাম স্থান পায়। তিনি পাশ্চ্য ও পাশ্চাত্যের স্কলারদের&lt;br /&gt;কাছে একটি রিসার্চের বিষয়। পাশ্চাত্য পন্ডিতেরা তার উপর অনেক প্রবন্ধ এবং পেপার লিখেছে। কিন্তু&lt;br /&gt;দুঃখের বিষয় হচ্ছে তাকে নিয়ে আমাদের মধ্যে যে রকম আলোচনা হওয়া উচিৎ তা ততটা নেই।&lt;br /&gt;এই মহীয়সী মহিলা ৮৮ বছর বয়সে (৩ আগষ্ট ২০০৫) ইন্তেকাল করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সূত্রঃ&lt;br /&gt;১. The return of the Pharao, Islamic Foundation, UK&lt;br /&gt;২. The Oxford Encyclopedia of the Modern Islamic World, Oxford University Press.&lt;br /&gt;৩. ‘Zainab Al-Ghazali Dies at 88’&lt;br /&gt;www.islamonline.net/ENGLISH/News/2005/08/03/article06.shtml&lt;br /&gt;৪. ‘To Allah’s Forgiveness and Mercy’ by Sahba Mohammad.&lt;br /&gt;৫. ‘Zaynab Al Ghazali: Islamist Feminist?’ by Denis J. Sullivan and Sana Abed-&lt;br /&gt;Kotob.&lt;br /&gt;৬. কারাগারের রাতদিন, আল-ফালাহ পাবলিকেশন্স, ঢাকা।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8651028466442247475-5498064147655273757?l=adams-son.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/5498064147655273757/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8651028466442247475&amp;postID=5498064147655273757' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/5498064147655273757'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/5498064147655273757'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/2009/05/blog-post_08.html' title='জয়নাব আল গাজালী :  সংগ্রামী নারীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475.post-2515967649881958327</id><published>2009-05-08T07:25:00.000-07:00</published><updated>2009-05-08T07:30:41.693-07:00</updated><title type='text'>সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে ফেলা আমাদের জাতিরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক</title><content type='html'>পিলখানায় যখন বিদ্রোহের নামে হত্যাযজ্ঞ চলছিল ২৫ এবং ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০০৯ তারিখে তখন গোটা দেশবাসী ভেতরে কি হচিছল সে ব্যপারে অন্ধকারে ছিল। আর এমনই একটি অবস্থায় দেশের মিডিয়াগুলো যেসব প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিল তা কার্যত দেশের সেনাবাহিনীকে কলঙ্কিত করছিল। সবার কাছে এটাই প্রতিভাত হচিছল যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী দুর্নীতিগ্রস্থ। আর এটিই তথাকথিত বিদ্রোহের মূল কারণ। শুধু তা-ই নয় কি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে তা যখন প্রচার হয়ে পড়ল তখনও অনেককে ব্যক্তিগতভাবে নানা বিরূপ মন্তব্য করতে শুনেছি। একজনতো আলোচনা প্রসঙ্গে বলছিলেন আমাদের সেনাবাহিনীর দরকার কি? সৈন্যরাতো শুধু খায় আর ঘুমায়, আর কোন কাজ করেনা। মালদ্বীপেরতো সেনাবাহীনি নাই, আমাদের না থাকলে ক্ষতি কি? যে এই কথা বলেছে সে অতিশয় সাধারণ মানুষ, তার চিন্তার গভীরতা একদমই নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এমনসব আত্মঘাতী চিন্তা ঢুকবার একটি কারণ হতে পারে দেশের কিছু সুশীল (?) বুদ্ধিজীবীরা সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক চিন্তা করছেন এবং প্রচার করছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যানের কথা। তিনি বলছিলেন, “যারা মারা গেল, প্রচার করা হচেছ তারা মেধাবী। অথচ আমার মনে প্রশ্ন জাগে সত্যিই কি তারা মেধাবী?” চিন্তা করে দেখলাম সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক চিন্তা থেকেই তিনি একথা বলছেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বল্লাম, স্যার কিন্তু তাদের অনেকেরই বাংলাদেশের জন্য অনেক কনট্রিবিউশন আছে, যেমন কর্ণেল গুলজার উদ্দিন আহমেদ। তিনি কিছুক্ষণ শুধু তাকিয়ে ছিলেন। কোন উত্তর দেননি। হয়ত এভাবে প্রতিবাদ আশা করেননি। শুধু তিনি এমন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন তা নয়। বরং বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর বাজেট কমানোর কথা থেকে থেকে বিভিন্ন বুদ্ধিজীবিদের কাছ থেকে প্রায়ই শোনা যায়। বলা হয়ে থাকে এটিও সেনাবাহিনী সম্পর্কে নেতিবাচক ও অদূরদর্শী চিন্তারই ফসল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সহজ বিষয়টি বোঝা উচিত যে সেনাবাহিনী দুর্বল হলে আমাদের পার্শ্ববর্তী যে কোন দেশই যে কোনভাবে এর বেনিফিট নেবার চেষ্টা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে পাঠকদের জ্ঞাতার্থে বেশ একটু পেছনে ফিরে যেতে চাই। বাংলাদেশের যখন অভ্যুদয় ঘটছিল সে প্রেক্ষাপটে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত চেয়েছিল বাংলাদেশের কোন নিজস্ব সেনাবাহিনী না থাকুক। অলি আহাদ তার “জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫” বইতে বলেন, “১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে ভারত সরকারের সাথে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার প্রশাসনিক, সামরিক, বাণিজ্যিক, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি সাতদফা গোপন সমঝোতা চুক্তি সম্পাদন করেন। চুক্তিগুলো নিম্নরূপ:&lt;br /&gt;১. প্রশাসনিক বিষয়ক: যারা সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে শুধু তারাই প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে নিয়োজিত থাকতে পারবে। বাকীদের জন্য জায়গা পূরণ করবে ভারতীয় প্রশানিক কর্মকর্তাবৃন্দ।&lt;br /&gt;২. সামরিক বিষয়ক: বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশে অবস্থান করবে। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাস থেকে আরম্ভ করে প্রতিবছর এ সম্পর্কে পুনরীক্ষণের জন্য দু’দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।&lt;br /&gt;৩. বাংলাদেশের নিজস্ব সেনাবাহিনী বিষয়ক: বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনাবাহিনী থাকবেনা। অভ্যন্তরীণ আইন-শৃংখলা রক্ষার জন্য মুক্তিবাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি প্যারামিলিশিয়া বাহিনী গঠন করা হবে।&lt;br /&gt;৪. ভারত-পাকিস্তান সর্বাত্মক যুদ্ধ বিষয়ক: সম্ভাব্য ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অধিনায়কত্ব দেবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান। এবং যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তি বাহিনী ভারতীয় বাহিনীর অধিনায়কত্বে থাকবে।&lt;br /&gt;৫. বণিজ্য বিষয়ক: খোলা বাজার ভিত্তিতে চলবে দু’দেশের বাণিজ্য। তবে বাণিজ্যের পরিমাণের হিসাব নিকাশ হবে বছর ওয়ারী এবং যার যা প্রাপ্য সেটা র্স্টার্লিং এ পরিশোধ করা হবে।&lt;br /&gt;৬. পররাষ্ট্র বিষয়ক: বিভিন্ন রাষ্ট্রের সংগে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রশ্নে বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংগে যেগাগাযোগ রক্ষা করে চলবে এবং যতদুর পারে ভারত বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে সহায়তা দেবে।&lt;br /&gt;৭. প্রতিরক্ষা বিষয়ক: বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিষয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ভারত। ” (অলি আহাদ রচিত “জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ৭৫”, বাংলাদেশ কোঅপারেটিভ বুক সোসাইটি লি: প্রকাশিত, চতুর্থ সংস্করণ ফেব্রুয়ারী ২০০৪, পৃষ্ঠা-৪৩৩,৪৩৪)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই গোপন চুক্তির বিষয়টির সত্যতার স্বীকারোক্তি পাওয়া যায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পীকার মরহুম হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর কাছ থেকে। অলি আহাদ লিখেন: “ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর সরকারের সাথে ভারত যে ৭ দফা গোপন চুক্তি করে সে ব্যাপারে জনাব মাসুদুল হক রচিত “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে র এবং সি.আই.এ” শীর্ষক গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দিল্লীতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্র দূতের দায়িত্ব পালনকারী জনাব হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর একটি সাক্ষাতকার ছাপা হয়। জনাব হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী পরবর্তীতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পীকার ছিলেন। ১৯৮৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর জনাব চৌধূরীর-এ সাক্ষাতকারের সংশ্লিষ্ট অংশ উক্ত গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের ১৬৩ থেকে ১৬৬ পৃষ্ঠা হুবহু নীচে তুলে ধরা হলো:...” (প্রাগুক্ত পৃষ্ঠা - ৪৩৪) এরপর অলি আহাদ সাক্ষাতকারের সংশ্লিষ্ট অংশটি পুরোপুরি তুলে দেন। আমরা এর বিশেষ বিশেষ অংশ তুলে ধরছি: “....১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসে ভারত সরকারের সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার এক লিখিত চুক্তিতে প্যাক্ট নয় - এগ্রিমেন্টে আসেন। এই চুক্তি বা এগ্রিমেন্ট অনুসারে.....বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভারতীয় সৈন্য বাংলাদেশে অবস্থান করবে (কতদিন অবস্থান করবে তার সময়সীমা নির্ধারন করা হয়না)। ১৯৭২ সালের নভেম্বর মাস থেকে আরম্ভ করে প্রতিবছর এ সম্পর্কে পুনরীক্ষণের জন্য দু’দেশের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।&lt;br /&gt;বাংলাদেশের নিজস্ব কোন সেনাবাহীনি থাকবেনা। আভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মুক্তিবাহিনীকে কেন্দ্র করে একটি প্যারা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করা হবে। এই লিখিত সমঝোতাই রক্ষীবাহিনীর উৎস। আর ভারত পাকিস্তান সর্বাত্মক যুদ্ধবিষয়ক সমঝোতাটি হল: সম্ভাব্য ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে অধিনায়কত্ব দেবেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান। মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক নন। এবং যুদ্ধকালীন সময়ে মুক্তিবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর অধিনায়কত্বে থাকবে। চুক্তির এই অনুচ্ছেদটির কথা মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীকে জানানো হলে তীব্র ক্ষোভে তিনি ফেটে পড়েন। এর প্রতিবাদে রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পন অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকেন না। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ কথাবার্তার মাঝে প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীকে অপ্রস্তুত করে দিয়ে বলেন: ‘আমার দেশ থেকে আপনার সেনাবাহিনী ফিরিয়ে আনতে হবে।’ শেখ মুজিব এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এত সহজভাবে তুলতে পারেন, ভাবতেও পারেননি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার এই অপ্রস্তুত অবস্থার সুযোগ নিয়ে শেখ মুজিব নিজের কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘এ ব্যপারে প্রধানমন্ত্রীর আদেশই যথেষ্ট।’ অস্বতিস্তকর অবস্থা পাশ কটাতে মিসেস গান্ধীকে রাজি হতে হয় এবং জেনারেল মানেকশকে বাংলাদেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহরের দিনক্ষণ নির্ধারণের নির্দেশ দেন।.....&lt;br /&gt;এই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম। চুক্তি স্বাক্ষরের পর মুহুর্তেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।&lt;br /&gt;ভারত সরকারের সঙ্গে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গৃতীত এই পুরো ব্যবস্থাকেই অগ্রাহ্য করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ কারণে আমি বিনা দ্বিধায় বলতে পারি যে, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ বাংলাদেশ পাকিস্তান সৈন্যমুক্ত হয় মাত্র। কিন্তু স্বাধীন-সার্বভৌম হয় ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারীতে। যেদিন শেখ মুজিব পাকিস্তান জেল থেকে মুক্ত হয়ে ঢাকা আসেন। বস্তুত: শেখ মুজিব ছিলেন প্রকৃত সাহসী এবং খাটি জাতীয়তাবাদী।” (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা: ৪৩৪ - ৪৩৬)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী ঠিকই বলেছেন। আসলে সে সময় শেখ মুজিবের দৃঢ়তা ও জাতীয়তাবাদী মনোভবের কারণে বাংলাদেশ সিকিমের মত একটি রাষ্ট্র হওয়া থেকে বেচে গেছে। বলা হয়ে থাকে সিকিমের নিজস্ব সেনাবাহিনী না থাকার কারণেই সিকিমকে ভারতের অঙ্গরাজ্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করা সহজ হয়েছে। অথচ দু:খ হয় আজও বাংলাদেশে কিছু মানুষ আছে, কিছু বুদ্ধিজীবী আছে যাদের মধ্যে জাতীয় স্বার্থ বোধ ও দেশপ্রেমের অভাব আছে বলে মনে হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় তারা চান দুর্বল সেনাবাহিনী, চান সেনাবাহিনী নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হোক। এভাবে তারা কাদের স্বার্থ রক্ষা করতে চাচেছন তা বোঝা মুশকিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;গত দুই বছরের ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে সেনাবাহিনী নানাভাবে আলোচনায় চলে এসেছে এবং প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, যা দেশের জন্য লংটার্মে ক্ষতিকর হয়েছে। অথচ ১/১১ ঘটার জন্য দায়ী মূলত রাজনীতিবিদদের জেদাজেদি ও হানাহানি, সুশীল সমাজ এবং বাংলাদেশে কর্মরত কিছু বিদেশী কূটনীতিকদের ভূমিকা। অন্যদিকে ঐ বছরই আগষ্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে তুলকালাম বেধে যায়, তাতে ছাত্র-সেনাবাহিনী মুখোমুখি দাড়িয়ে যায়। এটিও আমাদের জাতির জন্য ক্ষতিকর হয়েছে। সবশেষে পিলখানার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন প্রাথমিকভাবে মিডিয়ার নেতিবাচক প্রচারণা সেনাবাহিনীর ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে অন্যদিকে এতগুলো অফিসারের মৃত্যুতে সেনাবাহিনী এবং জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এদের মধ্যে এমন অনেক অফিসার রয়েছেন যাদের অভাব হয়ত কখনো পূরণ করা সম্ভব হবেনা। অপরদিকে পিলখানা ঘটনার ফলে একরাতের মধ্যে বিডিআরের কমান্ড স্ট্রাকচার ভেঙ্গে গিয়ে দেশের সমগ্র সীমান্ত এলাকা কার্যত অরক্ষিত বা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অনেক সামরিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক মনে করছেন। বিডিআরের দুর্বল হওয়া মানে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা দুর্বল হওয়া। কেননা বিডিআরকে বলা হয় দেশের ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্স। এই বিডিআরের পূনর্গঠন সহজ কাজ হবেনা। এজন্য সংশ্লিষ্টদের অনেক চিন্তাভাবনা এবং শ্রম সময়ের প্রয়োজন হবে। দেশের স্বার্থে সকলকে এ বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পিলখানা হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় দেশে আর কেউ ঘটাতে না পারে। দেশের বুদ্ধিজীবিদের সেনাবাহিনী সম্পর্কে অযথা নেতিবাচক মনোভব পোষণ বাদ দিতে হবে যাতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না হতে পারে। সেনাবাহিনীকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা রাজনীতিবিদদের আত্মঘাতী কালচার পরিত্যাগ করে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। সেনাবাহিনীকে নিজেরাই দুর্বল করলে, রাজনীতিবিদরা ইচ্ছাকৃতভাবে হানাহানি বাড়ালে পাশ্ববর্তী কোন দেশ যদি এর সুযোগ নিতে চেষ্টা করে তবে এর জন্যতো তাকে দায়ী করা যায়না।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8651028466442247475-2515967649881958327?l=adams-son.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/2515967649881958327/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8651028466442247475&amp;postID=2515967649881958327' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/2515967649881958327'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/2515967649881958327'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/2009/05/blog-post.html' title='সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে ফেলা আমাদের জাতিরাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475.post-3610027308824210351</id><published>2008-12-31T01:05:00.000-08:00</published><updated>2008-12-31T01:24:05.618-08:00</updated><title type='text'>একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা ও অনৈতিকতামুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: justify;"&gt;প্ল্যু সা শাঁজ প্ল্যু সে লা মেম্ শোজ। মুজতবা আলী ভ্রমনপ্রিয় পন্ডিত ব্যক্তি। বহু ভাষায় তার দক্ষতা ছিল। তার কোন এক বইতেই এই ফরাসী প্রবাদটি পড়েছিলাম। তিনি এর যে ইংরেজী অনুবাদ দিয়েছিলেন তা হচ্ছে, “The more it changes the more it is the same thing.” অর্থা কিনা যতই তুমি কোন কিছু পরিবর্তন কর ততই এটা একই জিনিস রয়ে যায়। আশা করি ফরাসী প্রেসিডেন্ট মহোদয় ওবামাকে তাদের এই প্রবাদটির কথা জানাননি, তাহলে চেঞ্জ-এর ধ্বজাধারী ওবামা কিছুটা বিব্রত বোধ করতেন কিনা বলা মুশকিল। যাইহোক প্রবাদটির সত্যাসত্য বিচারে কখনও মাথা ঘামাইনি। কিন্তু প্রবাদটি যে সত্য হলেও হতে পারে সেটি হাড়ে হাড়ে টের পেলাম পাসপোর্ট বানাতে গিয়ে। পাসপোর্ট অফিসে যদি কেউ আজ থেকে কয়েক বছর আগে গিয়ে থাকেন এবং তখনকার অবস্থার সাথে বর্তমান অবস্থার তুলনা করেন তাহলে বুঝতে পারবেন সেখানকার অবস্থার যথেষ্ট পরিবর্তন বা চেঞ্জ ঘটেছে। পাসপোর্ট অফিসের গেট পর্যন্ত পৌছাবার আগে অসংখ্য দালাল আপনাকে তাদের নানান অফার নিয়ে ছেকে ধরবেনা। একসময় মোড় থেকে শুরু করে পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য ফটোকাপির দোকান ছিল, যারা কিনা পাসপোর্টের ফর্ম ফটোকপি করে বিক্রি করত। সেসব দোকানও এখন নেই। বাইরে মোটামুটি একটি ছিমছাম পরিবেশ। এখানে বলে রাখা ভাল পাসপোর্ট ফরম এখন বাংলাদেশ সরকারের ওয়েবসাইটেও পাওয়া যাচ্ছে। সুতরাং ফর্ম নিতে আর পাসপোর্ট অফিস পর্যন্ত যেতে হবেনা। এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন বলতে হবে। অফিসের ভেতরকার পরিবেশও বাইরের মতই কম বেশী ভালই মনে হল। আপাতদৃষ্টিতে দালালদের চোখে পড়লনা। সবচেয়ে চেঞ্জ চোখে পড়ল তাদের সার্ভিসে। ছয় হাজার টাকায় জরুরী পাসপোর্ট নেয়া যায় এবং ভোটার আইডি কার্ড থাকলে সেটা এক ঘন্টার মধ্যেই হাতে পাওয়া যায়। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি আগে জরুরী পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও নানা ঝামেলা পোহাতে হত। একটি জরুরী পাসপোর্ট করতেই গিয়েছিলাম, দিনে দিনে পাসপোর্ট হাতে পেয়ে ভাবছিলাম যাক শেষ পর্যন্ত তাও কিছু পরিবর্তন এসেছে। খোদ আমেরিকাতেই যখন পরিবর্তনের সুবাতাস, আর আমাদের দেশেও যখন দুবছর ব্যাপি নানা আবর্তন আর প্রবর্তনের ঢেউ, তখন বিবর্তনের নানা ধারা পেরিয়ে পাসপোর্ট অফিসের এই পরিবর্তন বেশ আবশ্যম্ভাবী বলেই মনে হচ্ছিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়। এ সময়ের মধ্যে যে এস, আই মহোদয় ভেরিফিকেশনে এসেছিলেন তিনি আমাকে বাসায় খুজে পাননি। তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছে বাসার লোকজন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন বিদ্যুত বিলের ফটোকপি ইত্যাদি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এসএসসির সার্টিফিকেট প্রয়োজন ছিল। আমার সার্টিফিকেট কোথায় আছে বাসার কেউ জানতেননা। তাই তিনি তার ফোন নম্বর দিয়ে গিয়েছিলেন এবং বাসায় বলে রেখেছিলেন আমি যেন তার সাথে সার্টিফিকেট সহ দেখা করি। যথারীতি আমি তার মোবাইলে ফোন করলাম পরের দিন। তিনি আমাকে রাতে যেতে বললেন মিরপুর চৌদ্দ নম্বর পুলিশ কোয়ার্টারে। ক্লাস শেষ করে রাত নয়টার সময় কোন মতে মিরপুর দশ নম্বর নেমে একটা রিকশা নিলাম চৌদ্দ নম্বরের উদ্দেশে। রিকশায় উঠে যাচ্ছিলাম। এমন সময় মনে পড়ল প্রচলিত নর্ম (?) অনুযায়ী যিনি পুলিশ ভেরিফিকেশন করেন কষ্ট করে, তার কিছু দাবী দাওয়া থাকে। খেয়াল করে দেখলাম আমার কাছে বাসায় যাওয়ার ভাড়া ছাড়া আর কিছুই নেই। গতকাল লোকটা যেহেতু এসেছিল বাসায় সুতরাং বাসায় ফোন করলাম বিষয়টা পরিষ্কার হবার জন্য। জানতে পারলাম আমাদের বাসার কেয়ারটেকারের মাধ্যমে তাকে একশত টাকা দিতে চাওয়া হয়েছিল। লোকটি তা নিতে রাজী হননি। শুনে আমি যারপরনাই খুশি হলাম। যাক শেষ পর্যন্ত তাহলে সব জায়গায় কিছু চেঞ্জ এসেছে। লোকটি তাহলে সত্যিই সৎ। এই ভেবে আমি ফুরফুরে মন নিয়ে উক্ত সৎ এস আই পানে চলতে থাকলাম। চৌদ্দ নম্বর পুলিশ কোয়ার্টারের গেটে এসে তাকে ফোন করলাম। তখন বাজে রাত সাড়ে নয়টা। তিনি জানালেন সারা দিনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম শেষে তিনি একটু খেতে বসেছেন। তিনি আমাকে পুলিশ কোয়ার্টারের গেটে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললেন। আমি গেটের কাছে দাড়াতে গেটম্যান আমাকে এখানে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলেন। আমি কারণ বলতেই সে আর কিছু বল্ল না। আমি কিছুক্ষণ চুপচাপ দাড়িয়ে থাকলাম। গেটম্যান কনস্টেবলটি আমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে গার্ডরুমের ভেতর থেকে একটি চেয়ার বের করে আমাকে বসতে দিল। কছুক্ষণ বসে থাকতে হল। এরই মধ্যে হঠাৎ দেখতে পেলাম এক লোক এদিকে এগিয়ে আসছে। রাস্তা বেশ অন্ধকার থাকায় লোকটি তার মোবাইলের টর্চটি জ্বালিয়ে রেখেছে। লোকটি কাছে এসে যখন নিশ্চিত হল যে আমিই তার কাছে এসেছি তখন সে মোবাইলের লাইটের ইশারা করে তার সাথে যেতে ইংগিত করল। আমি একটু ধাক্কার মত খেলাম, কারণ পুলিশ কোয়ার্টারটি গাছপালা ঘেরা একটি বড় এলাকা জুড়ে রয়েছে। সেখানে শুধু এই গেটের কাছেই যা একটু উজ্জ্বল আলো রয়েছে। রাস্তার পাশে ল্যাম্পপোস্টের খুবই অপ্রতুল আলো, তাছাড়া আশে পাশে সব ঘন অন্ধকার। এই অবস্থায় লোকটি কোথায় নিয়ে যেতে চাচ্ছে? যাইহোক অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনুসরণ করতে হল। লোকটি যেখানে নিয়ে গেল তা গেট থেকে বেশ দূরে। মাঠের পাশে কয়েকটি পুলিশের পুরাতন ভাঙ্গা গাড়ি পড়ে রয়েছে, আশে পাশে অন্ধকার, কেমন ভৌতিক পরিবেশ। আমার মনে কেমন যেন খটকা লাগতে শুরু করল, কারণ গার্ডরুমের সামনে একটা টেবিলও ছিল আবার প্রয়োজনীয় আলোও ছিল। সে জায়গা বাদ দিয়ে এখানে কেমনতর কাগজ পত্রের এসেসমেন্ট হবে তা আমার মাথায় ঢুকলনা। যাইহোক মনের চিন্তা মনে চেপে রেখে লোকটির রুটিন জাতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকলাম। সে অনেকটা যন্ত্রের মত অভ্যস্ত গলায় প্রশ্ন করতে থাকল, আপনি অমুক? এটা আপনার ছবি? এটা আপনার সাইন ইত্যাদি। সে অবশ্য এক্ষেত্রে তার মোবাইল সেটের টর্চটি ব্যবহার করছিল। ছবির সাথে চেহারা মেলাতে সে আমার চেহারার উপরও আলো ফেলল। এসএসসি সার্টিফিকেট নেয়ার পর সমস্ত ফর্মাল প্রশ্ন শেষে, লোকটি বেশ খাতির জমানো আলাপ আলোচনা শুরু করল। যেমন আপনি কোথায় পড়েন, অনার্স কি বিষয়ে করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। সে এক পর্যায়ে জানাল সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে অনেক আগে। এসব কথার ফাঁকে আমার মনে চেপে রাখা শংকাবোধটা কমে গেল, আমি তার সাথে সহজভাবে কথা বলতে থাকলাম। এক সময় দেখা গেল কথার প্রসঙ্গসমূহ শেষ হয়ে যেতে লাগল এবং এক সময় লোকটি চুপ হয়ে গেল এবং আমার মনে হতে থাকল লোকটি আমাকে কিছু বলতে চাচ্ছে। যাইহোক শেষ পর্যন্ত লোকটা সম্ভবত লজ্জা ভেঙ্গে মনের কথাটি পেড়েই ফেল্ল। লোকটি অস্পষ্টভাবে কি বল্ল তার শব্দ সব আমি বুঝতে পারলামনা। তারপরও এতটুকু স্পষ্টভাবে বুঝলাম লোকটি টাকা চাচ্ছে। আমি যারপর নাই আঘাতপ্রাপ্ত হলাম। অবস্থাটি স্বাভাবিক ভাবেই বিব্রতকর মনে হল। একদিকে তো টাকা নাই আবার মানুষ কিভাবে এত নির্লজ্জ হতে পারে তা ভেবে এসব পরিস্থিতিতে আমি নিজেই লজ্জায় নুয়ে পড়ি। আমি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলাম গতকাল যে তাকে টাকা দিতে চাওয়া হয়েছিল, তা সে নিলনা কেন? লোকটি বলল - "ও! ঐটা! দারোয়ান আমাকে একশ টাকা সাধছিল, কিন্তু একশ টাকা দিয়া কি হইব, একশ টাকা তো আমার মটর সাইকেল স্টার্ট দিতেই ফুরায়া যায়।" এবার বিষয়টি পরিষ্কার হল। লোকটি কতটা সৎ এবং আমাদের লোকদের ক্যারেকটারের মধ্যে কতটুকু পরিবর্তন এসেছে তা ঠিক ঠিক বেঝা গেল। প্ল্যু সা শাঁজ প্ল্যু সে লা মেম্ শোজ প্রবাদটি যতই দূর দেশী হোক না কেন প্রবাদের মধ্যে যে সত্যতার ব্যাপার স্যাপার থাকতে পারে তা হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারলাম।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যাইহোক আমি লোকটিকে কোনমতে কনভিন্স করলাম যে আমার কাছে সত্যিই কোন টাকা পয়সা নাই। কিন্তু লোকটি যেন ঠিক সন্তুষ্ট হতে পারছেনা এবং নানাভাবে তা সে প্রকাশ করছে। এ অবস্থা চলতে চলতে হঠাৎ আলো আধারীর মধ্যেই দেখতে পেলাম লোকটির চোখের তারা নেচে উঠল, যেন সে নতুন একটা সল্যিউশন খুজে পেয়েছে। সে ভ্রু নাচিয়ে বলে উঠল, “আরে ভাই আজকাল কি আর এসবে কোন সমস্যা আছে নাকি, আপনি বাসায় যেয়ে আমার নাম্বারে একটা ফেক্সি পাঠায়া দিলেই তো হল। আমার নম্বার তো আপনার কাছে আছেই! ”এই অভিনব আইডিয়ার কথা শুনে কিছুণের জন্য বাকশূন্য হয়ে গেলাম। ফিরতী রিকশায় করে যখন আসছিলাম তখন মনটা খুবই খারাপ লাগছিল। লোকটি যেমন সৎ ধারণা করে গিয়েছিলাম ঠিক তেমনই বিপরীত ধারণা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। মানুষ এত নিচে কিভাবে নামতে পারে বিনা দ্বিধায়! তারা কি বিবেকের এতটুকু দংশনও অনুভব করেনা!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মনে পড়ল, টি আই বি বলেছিল যে এ সরকারের আমলে দুর্নীতি বেড়েছে। অথচ এই দুর্নীতি দূর করার জন্যই দেশে কতনা হৈ হৈ কান্ড ঘটে গেল গত দুবছর ধরে। ন্যাশনাল হাউজহোল্ড সার্ভে ২০০৭ এর সূত্র ধরে ট্রান্সপারেন্সি জানায়: “In terms of magnitude law enforcing agencies including joint forces, police, Rapid Action Battalion (RAB) were found to be the most corrupt...” অর্থাৎ মাত্রার দিক থেকে জয়েন্ট ফোর্স, পুলিশ, র‌্যব সহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে দুর্নীতির মাত্রা সবচেয়ে বেশী। সার্ভেতে আরও জানা গেছে ৯৬.৬ শতাংশ লোক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে ইন্টার‌্যাক্ট করতে যেয়ে কোন না কোন দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছে। তার মধ্যে ৯৪ শতাংশ দুর্ভোগের স্বীকার হয়েছে পুলিশের কাছ থেকে বাকিটুকু জয়েন্ট ফোর্স বা র‌্যাবের কাছ থেকে। টি আই বি চেয়ারম্যান ১৮ই জুন ২০০৮ তারিখে তথ্য দেন, পাবলিক এবং প্রাইভেট সেক্টর মিলে মোট ঘুষ গ্রহনের পরিমাণ হচ্ছে ৫৪৪৩ কোটি টাকা। টি আই বি এর রিপোর্টগুলো নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকতে পারে। এগুলো কতটুকু গ্রহনযোগ্য হচ্ছে বা হয়েছে আর এগুলো কি উদ্দেশ্যেই বা করা হয়েছে বা হচেছ সে সম্পর্কে নানা প্রশ্ন ওঠাটা খুবই যৌক্তিক বলে মনে হয়। কিন্তু এ তথ্যগুলো যদি আমরা ততটা আমলে নাও নিই, তারপরও বলা যায় এ সরকারের দুর্নীতি বিরোধী ড্রাইভের কারণে দুর্নীতির উপর তেমন কোন প্রভাব পড়েছে বলে মনে হয় না। অন্তত এতটুকু তো নিরাপদে বলাই যায় অনেক কিছু পরিবর্তন করার পরও দুর্নীতি আমাদের জন্য এখনও একটি বড় সমস্যা - এ সত্যটির কোন পরিবর্তন হয়নি। আসলে দুর্নীতির বিষয়ে কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা যেমন নেতিবাচকভাবে এবং হাস্যকর উপায়ে করা হয়েছে তা সত্যিই নিন্দা করার মত। রোড শো এর মত হালকা প্রদর্শনমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তো অন্তত দুর্নীতির মত গভীর, জটীল এবং সিরিয়াস ধরণের সমস্যা দূর করা যাবে না। এটুকু অন্তত আমাদের বোঝা উচিৎ। দুর্নীতির সাথে একজন মানুষের মূল্যবোধ, তার বিশ্বাস, জীবনধারা সমস্ত কিছু জড়িত। দুর্নীতি কেন এবং আমাদের এ অবস্থা থেকে বের হবার জন্য কি কি করা যেতে পারে তা একটি দীর্ঘ ও গভীর চিন্তা-গবেষণার বিষয়। কিন্তু যদি মোটা দাগে বলতে চাই তাহলে বলতে হয় এর একটি প্রধান কারণ হচেছ বৈষয়িকতা। আমরা আমাদের বৈষয়িক প্রয়োজনগুলোকে অনেক বাড়িয়ে নিয়েছি। ছোটবেলায় গ্রামবাংলার সহজ সরল যে চিত্রটি আমাদের মনে বইয়ের পাতা থেকে গেথে গিয়েছিল সেই চিত্রটি গ্রামে বা শহরে কোথাও-ই খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সবখানেই মানুষ জীবনকে অতিরিক্ত প্রতিযোগীতামূলক, জটীল এবং অতিমাত্রায় বস্তুবাদী করে ফেলেছে। আমাদের জীবন দৃষ্টির পরিবর্তন না ঘটলে, লোভ না কমাতে পারলে কিভাবে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে তা বলা মুশকিল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এক্ষেত্রে নৈতিকতা একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। মানুষের নৈতিকতা মানুষের জীবন-দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করে। আর নৈতিকতা না থাকলে লোভের কাছে আমাদের হার মানতেই হবে। নৈতিকতা যদি না থাকে তাহলে, সুযোগ পেলে একজন মানুষের অধিক কিছু অর্জন থেকে নিজেকে বিরত রাখবার আসলে কোন যুক্তিযুক্ত কারণ নেই। এস আই সাহেবরা যদি মানুষের ঘরে ঘরে পুলিশ কিয়ারেন্স দিতে গিয়ে কিছু বার্তি টাকা পান তাহলে তিনি নেবেননা কোন যু্ক্তিতে? এস আই সাহেবের কাছ থেকে কথা প্রসঙ্গে জানতে পেরেছিলাম তিনি প্রতিদিন প্রায় ৪০ টি বাসায় যান। এর মধ্যে ৩০ টি বাসা থেকেও যদি তিনি গড়ে ২০০ টাকা করে পান তাহলে তার দৈনিক আয় হচেছ ৬০০০ টাকা। এভাবে তিনি যদি ২৫ দিন ডিউটি করেন তাহলে তার আয় হচেছ ১,৫০,০০০ টাকা। এত টাকা মাসিক বেতন তো ঢাকা শহরে বড় বড় অফিসাররাও পাননা। তাহলে তিনি কেন এ সুযোগটি ব্যবহার করবেননা? আসলে নৈতিকতা, শুধুমাত্র নৈতিক বোধ মানুষকে এমন কাজ থেকে দূরে রাখতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের এ দেশটি সাইত্রিশ বছরে পা দিল। একটি জাতিরাষ্ট্রের বিচারে এটি কোন বড় সময় নয়। এখনও আমাদের পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ। আর তাই এখনও স্বপ্ন দেখতে চাই অনৈতিকতা মুক্ত সুন্দর একটি বাংলাদেশের। এ-কি খুবই অন্যায় আর অসম্ভব স্বপ্ন? সবাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হলে সর্বব্যাপী অনৈতিকতার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা কি খুবই কঠিন? বিজয়ের এ মাসে বিজয়ের আনন্দের পাশাপাশি আমরা সকলে কি একটি অনৈতিকতা মুক্ত সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়ার প্রতিজ্ঞা নিতে পারিনা?&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8651028466442247475-3610027308824210351?l=adams-son.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/3610027308824210351/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8651028466442247475&amp;postID=3610027308824210351' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/3610027308824210351'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/3610027308824210351'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/2008/12/blog-post_31.html' title='একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা ও অনৈতিকতামুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475.post-6981997977286825263</id><published>2008-12-08T02:26:00.000-08:00</published><updated>2008-12-08T02:28:50.546-08:00</updated><title type='text'>ত্যাগেই খুশি</title><content type='html'>দুম্বা কিম্বা গরু খাশি&lt;br /&gt;চলছে জবাই রাশি রাশি।&lt;br /&gt;কোথায় হাসি কোথায় খুশি?&lt;br /&gt;ত্যাগের একোন্ বাজছে বাশি?&lt;br /&gt;ভোগের মোহে সুখ বিলাসী&lt;br /&gt;বুঝবেনা এর কম বা বেশী।&lt;br /&gt;ত্যাগেই খুশি ত্যাগেই হাসি&lt;br /&gt;জানুক সকল বিশ্ববাসী।&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8651028466442247475-6981997977286825263?l=adams-son.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/6981997977286825263/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8651028466442247475&amp;postID=6981997977286825263' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/6981997977286825263'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/6981997977286825263'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/2008/12/blog-post.html' title='ত্যাগেই খুশি'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475.post-7765394001672847411</id><published>2008-11-26T20:13:00.000-08:00</published><updated>2008-11-26T20:22:14.804-08:00</updated><title type='text'>“স্বপ্ন এত ছোট কেনে?”</title><content type='html'>&lt;div align="justify"&gt;কথায় বলে, ছালায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন। মানে খুব বেশী স্বাপ্নিক হলে সমস্যা। এটি যেমন একটি সমস্যা তেমনি খুব ছোট স্বপ্ন হলেও সমস্যা। স্বপ্ন খুব ছোট হলে যে সমস্যা হয় তা হল, বড় স্বপ্ন পূরণের দিকে যাওয়ার অনুপ্রেরণা থাকেনা। এটি খুবই পরিষ্কার হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দিকে তাকালে। ছোট খাট সাফল্যে দল ও দর্শক এমন খুশিতে ফেটে পড়ে যে ধারাবাহিক ভাবে ভাল করা এবং আরো ভাল পারফর্ম করার দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। অতি আবেগের নেতিবাচক প্রভাব যে সত্যিই রয়েছে তার প্রমাণ খোদ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক আশরাফুলের কথা থেকে পাওয়া গেছে। একদিন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল কেন তিনি ধারাবাহিক ভাবে ভাল করতে পারেননা। তার উত্তর ছিল অনেকটা এরকম: আসলে একদিন ভাল করার পর আমি এত বেশী খুশি হয়ে যাই যে তার প্রভাবে পরবর্তী অনেকদিন ভাল করতে পারিনা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আসলেই আমরা জাতিগত ভাবেই খুবই আবেগ প্রবণ। আর আবেগ প্রবণ হবার কারণে আমরা খুব অল্পেই অতিশয় আবেগে উদ্বেলিত হয়ে পড়ি। আর এ বিষয়টিই প্রথম আলোতে আনিসুল হক তার ‌ ‘স্বপ্ন এত ছোট কেনে?’ শিরোণামের গদ্যকার্টুনে তুলে ধরেছেন। তিনি সশস্ত্র বাহিনী দিবসে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সংক্ষিপ্ত কুশল বিনিময়ের ব্যপারে মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে লিখেছেন। আসলেই খালেদা ও হাসিনার কয়েক মিনিটের আলাপ মিডিয়া যে ভাবে হাইলাইট করল তা আমাকেও কিছুটা কৌতুকদ্দীপ্ত করে তুলেছিল। আনিসুল হক লিখেছেন, “সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বেগম খালেদা জিয়া আর শেখ হাসিনা পাশাপাশি দাড়িয়েছিলেন। তাদের মুখে হাসি ছিল। তারা কুশল বিনিময় করেছেন। শেখ হাসিনা নাকি জানতে চেয়েছেন, বিশেষ কারাগারে যখন পাশাপাশি থাকতেন তারা, তখন বেগম জিয়ার জন্য তিনি খাবার রেধে পাঠিয়েছিলেন, সেটা বেগম জিয়া পেয়েছেন কি না! এরকমই কথা বার্তা। কিন্তু সেটাই হয়ে উঠল আমাদের টেলিভিশন ও খবরের কাগজগুলোর প্রধান খবর। একটার শিরোনাম ছিল, জাতির স্বপ্নপূরণ।” আসলে এ রকম শিরোনাম কি একটু বাড়াবাড়ি নয়? অবশ্যই দু নেত্রীর কথা বলাকে, হাত মেলানোকে আমরা স্বাগত জানাব। বরং সরল দৃষ্টিতে তো মনে হচেছ কথা বলা, হাত মেলানো খুবই স্বাভাবিক। আর সে জন্যই একে এমনভাবে হাইলাইট করায় আমি নিতান্ত অবাক হতে হয়েছে। আমরা তো আশা করি দু নেত্রী শুধু কথা বলবেননা তারা দুজনের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করবেন। তাদের মতদ্বৈতা যেন জাতিকে দুভাগ করে না ফেলে, জাতিকে সংঘাতের মুখে ঠেলে না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। অথচ অতীতে আমরা এমনটিই হতে দেখেছি বার বার। কিন্তু দুজনেই সাবেক প্রধান মন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কোন দলের নয়। তাই আমাদের বিশ্বাস দু'জনেই এ দেশের ভালই চান। আর তাই জাতীয় স্বার্থে একাট্টা হয়ে কাজ করতে হবে তাদের। নতুবা জাতি দুর্বল থেকে দুর্বলতর হতেই থাকবে। তাই বলছিলাম আমাদের স্বপ্ন তো অনেক বড়। দু’জনে দু’মিনিট কথা বলাটা অবশ্যই ভাল হয়েছে। তবে আমাদের স্বপ্ন এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। আমরা আরো বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বপ্নপূরণের জন্য অপেক্ষা করছি।  সেজন্য তাদের অতি স্বাভাবিক সৌজন্যমূলক কুশল বিনিময়কে আমরা খুশির সাথেই নিতে চাই কিন্তু আহলাদে আটখানা হতে চাই না। আমরা দেখতে চাই রাজনীতিতেও তাদের এই সৌজন্য বজায় থাকবে।  &lt;br /&gt;&lt;br /&gt; &lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8651028466442247475-7765394001672847411?l=adams-son.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/7765394001672847411/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8651028466442247475&amp;postID=7765394001672847411' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/7765394001672847411'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/7765394001672847411'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/2008/11/blog-post_26.html' title='“স্বপ্ন এত ছোট কেনে?”'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-8651028466442247475.post-1513713787947295105</id><published>2008-11-19T22:13:00.000-08:00</published><updated>2008-12-20T06:46:06.171-08:00</updated><title type='text'>আয়েশা (রা:)-এর বিবাহের বয়স প্রসংঙ্গে</title><content type='html'>আয়েশা (রা:)-এর বিবাহের বয়স প্রসংঙ্গে&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ইন্টারেনটে কিছু গ্রুপ আছে যারা অন্ধ নাস্তিক। তারা ইসলামের বিরুদ্ধে বিষেদগার ছড়াতে ব্যস্ত। তবে ইসলাম বিদ্বেষীদের একটি সমস্যা হচ্ছে তাদের পকেটে মাত্র পাচ-সাতটি অভিযোগের কয়েন আছে, এগুলোই তারা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ছুড়ে মারছে বারবার। এরকমই একটি অভিযোগ হচ্ছে আয়েশা (রা:)-কে রাসুল (সা:) শিশু বয়সে বিয়ে করেছেন সুতরাং তিনি শিশুদের প্রতি যৌণ আকৃষ্ট ছিলেন, ইংরেজীতে যাকে বলে পেডাফাইল (নাউযুবিল্লাহ)। যে কোন নিরপেক্ষ বিচারে এ অভিযোগ ডাহা মিথ্যা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান প্রচারণার উগ্র বহি:প্রকাশ ছাড়া আর কিছুই নয়।&lt;br /&gt;বিশিষ্ট স্কলার আদিল সালাহি এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাব দেন, যেটি প্রকাশিত হয় আরব নিউজে ৭ মার্চ ২০০৩ তারিখে। তিনি বলেন&lt;br /&gt;"এ প্রশ্নটি ইসলাম এবং রাসুল (সা:)-এর ব্যক্তি চরিত্রের প্রতি আক্রমণ বৃদ্ধির সংগে সংগে বার বার উঠে আসছে। কিন্তু ইসলাম অথবা রাসুল (সা:)-এর চরিত্র এবং ব্যবহারে এমন কিছু নাই যার জন্য আমাদের ক্ষমা চাওয়ার বা বিব্রত বোধ করার প্রয়োজন আছে। তারপরও রাসুল (সা:)-এর সাথে আয়েশা (রা.)-এর বিয়ে এবং সে সময় তার বয়স প্রসংঙ্গে কিছু আলোচনা করা যেতে পারে যাতে প্রমাণ হয় এব্যপারে আদৌ অভিযোগ করার মত কিছুই নাই। এ ব্যপারে যে বর্ণনাটি সবচেয়ে বেশী উদ্ধৃত হয় তা হচেছ, রাসুল (সা:) যখন বিয়ের প্রস্তাব দেন তখন আয়েশা (রা:)-এর বয়স ছিল ছয় এবং তিনি যখন তাকে বিয়ে করেন তখন তার বয়স ছিল নয়। মানুষ এটাকে প্রতিষ্ঠিত সত্য বলে গ্রহন করে থাকে। কিন্তু যখন আমরা এসব বর্ণনা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিষয়গুলো পরীক্ষা নিরীক্ষা করি, তখন আমরা দেখতে পাই, এসব বর্ণনা এমনকি প্রাথমিক নিরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে পারেনা।&lt;br /&gt;সর্বপ্রথম আমাদের যে বিষয়টি বুঝতে হবে তা হচ্ছে, রাসুল (সা:)-এর সময় আরব সমাজের অধিকাংশই ছিল নিরক্ষর এবং খুব কম লোকই লিখতে বা পড়তে পারত। বড় বড় ঘটনাগুলোর সন তারিখ হিসেব রাখার জন্য যেখানে কোন নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডার ব্যবহার করা হত না, সেখানে মানুষের জন্ম মৃত্যুর তারিখ হিসেব রাখার কথাতো বাদই দেয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, আমরা পড়ি - রাসূল (সা:) জন্মগ্রহন করেছেন ‘হাতির বছরে’। হাতির বছর বলতে বোঝায় সেই বছর যেবার আবিসিনিয়ার সেনাপতি ইয়েমেন থেকে মক্কা এসেছিল এক বিরাট সেনাবাহিনী নিয়ে কাবা ঘর ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে। একটি বড় হাতি সৈন্য বাহিনীর সামনে মার্চ করে আসছিল - আর তাই ঘটনাটি এবং বছরটি হাতির নামে পরিচিত হয়।&lt;br /&gt;রাসূল (সা:)-এর সময় আরবে মানুষের বয়স সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো বিভ্রান্তিকর এবং অনির্দিষ্ট ছিল। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সাধারণ ধারণা হচ্ছে, খাদিজা (রা:)-এর সাথে রাসূল (সা:)-এর বিয়ের সময় রাসুল (সা:)-এর বয়স ছিল ২৫ অন্যদিকে খাদিজা (রা:)-এর বয়স ছিল ৪০। ইবনে হিশাম রচিত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সিরাত গ্রন্থে এরকম উল্লেখ থাকলেও সে সময় রাসুল (সা:)-এর বয়স সম্পর্কে আরো দু’টি ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি বর্ণনায় বলা হয়েছে খাদিজা (রা:)-এর সাথে বিয়ের সময় রাসূল (সা:)-এর বয়স ছিল ৩০, অন্যটিতে বলা হয়েছে ২৯। সে সময় খাদিজা (রা:) বয়স কত ছিল সে সম্পর্কেও বর্ণনার বিভিন্নতা আছে - কোথাও বলা হয়েছে সে সময় তার বয়স ছিল ৩৫ কোথাও বলা হয়েছে ২৫। রাসূল (সা:)-এর সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যদের একজন ছিলেন রাসূল (সা:)-এর চাচাতো ভাই ইবনে আব্বাস (রা:)। তার থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি বলেছেন, বিয়ের সময় রাসূল (সা:) ও তার স্ত্রী উভয়ের বয়সই ছিল ২৮ বছর। খাদিজা (রা:)-এর গর্ভে রাসূল (সা:)-এর ছয়টি সন্তান জন্মগ্রহন করেছে। এদিক থেকে বিচার করলে বিয়ের সময় তার বয়স চল্লিশ ছিল এমন ধারণা করার উপায় নেই, অথচ এটাই হচ্ছে সবচেয়ে প্রচলিত বর্ণনা। প্রকৃতপক্ষে তার বয়স এর চেয়ে অনেক কম হবার কথা। তার বয়স ২৮ অথবা ২৫ ছিল এমন বর্ণনাই অনেক বেশী যুক্তিসঙ্গত মনে করা যেতে পারে।&lt;br /&gt;খাদিজা (রা:)-এর জীবদ্দশায় রাসূল (সা:) আর কাউকে বিয়ে করেননি এবং তিনি খাদিজার (রা:) সাথে ২৫ বছর কাটিয়েছেন। তার ইন্তেকালের পর যখন তিনি খুবই চাপের মুখে ছিলেন, তখন একজন মহিলা সাহাবী তাকে পরামর্শ দিয়ে বল্লেন, তার বিয়ে করা উচিৎ যাতে তিনি দিনের দীর্ঘ প্রচারকাজ শেষে বাড়িতে একজন সঙ্গিনী পান এবং স্বস্তি লাভ করতে পারেন। সেই মহিলা তাকে দু’জনের কথা বল্লেন, একজন কুমারী আয়েশা অন্যজন বিধবা সাওদা। রাসূল (সা:) তাকে দুজনের কাছেই প্রস্তাব নিয়ে যেতে বল্লেন।&lt;br /&gt;রাসূল (সা:)-কে নতুন বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল তার জন্য একজন সঙ্গীনি এবং স্বস্তির ব্যবস্থা করা। কিন্তু যারা বলতে চান যে আয়েশা (রা:)-এর বয়স সে সময় ছয় ছিল তারা এটা বিশ্বাস করতে বলেন যে ঐ মহিলা সাহাবীটি রাসূল (সা:)-কে মাত্র ছয় বছরের একটি বালিকার সাথে বিয়ের তথা সঙ্গ লাভের প্রস্তাব করেছিলেন। আর বয়স সংক্রান্ত ঐসব বর্ণনা যদি গ্রহন করা হয় তাহলে সন্দেহ জাগা স্বাভাবিক যে, ঐ মহিলা সাহাবীটি কি তাহলে রাসূল (সা:)-কে সঙ্গ দেয়ার কথা বলছিলেন নাকি সঙ্গ দেয়া কথা বলছিলেন তার মেয়েকে, যার বয়স তখন ছয় বছরের চেয়ে বেশী ছিল ?&lt;br /&gt;বর্ণনাগুলো শুধু যৌক্তিকতার আলোকে বিচার না করে একে কিছু দালিলীক ভিত্তি প্রমাণ স্বাপেক্ষে বিবেচনা করা উচিৎ। এজন্য আমরা ইবনে ইসহাক রচিত সিরাত গ্রন্থ দেখব। আর ইবনে ইসহাক রচিত সিরাত গ্রন্থ হচেছ সমস্ত সিরাত গ্রন্থগুলোর ভিত্তি এবং সবচেয়ে নির্ভুল। সেখানে সেসব মুসলিমদের একটি তালিকা আছে, যারা ইসলামী দাওয়াতের শুরুর বছরগুলোতে ইসলাম গ্রহন করেছিলেন। সেই তালিকাটিতে প্রায় পঞ্চাশ জন মুসলিমের নাম আছে। যার মধ্যে আবু বকরের দুই কন্যা আসমা এবং আয়েশার নামও অন্তর্ভুক্ত আছে। সেখানে এটাও যোগ করা আছে যে তিনি সে সময় ছোট ছিলেন। এই তালিকায় আয়েশার নাম এসেছে বিশ নম্বরে। কিন্তু আমরা এই ক্রমের উপর তেমন গুরুত্ব আরোপ করবনা। আমরা যে বিষয়টির উপর গুরুত্ব দেব তা হচ্ছে, এই তালিকার সমস্ত মুসলিমই ইসলাম গ্রহন করেছিলেন নবুয়্যতের পঞ্চম বছরের আগে। কেননা ঐ বছরই আবিসিনিয়ায় মুসলমানদের প্রথম হিজরত সংঘঠিত হয় এবং ঐ তালিকায় এমন অনেকের নাম ছিল যারা এই হিজরতে অংশগ্রহন করেছিলেন। তাই বলা যায় পঞ্চম বছরে বা তার পূর্বে আয়েশা (রা:) ছোট ছিলেন, কিন্তু নিশ্চয় ততটা বড় ছিলেন যাতে তার নাম একটি নতুন দাওয়াতে বিশ্বাস স্থাপনকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তার বয়স কত ধরে নিতে পারি আমরা ? নিশ্চয় মনে করা ঠিক হবে না যে তার বয়স ২ অথবা ৪ অথবা ৫ ছিল আর তারপরও তাকে কীর্তিমানদের নামের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাই যদি হত তাহলে তালিকার পঞ্চাশজনের অন্যান্য সকলেরই যত বাচ্চা কাচ্চা ছিল সকলেরই নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হত। আসলে তিনি নিশ্চয় এতটা বড় ছিলেন যাতে তাকে ধর্ম পরিবর্তন করা বা নতুন ধর্ম গ্রহন করা - এই মাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে উল্লেখ করা যায়। এই হিসেবে লোকে যদি তাকে অনেক ছোট বলার প্রতি গুরুত্বারোপ করতে চায়, তাহলেও তার বয়স ১০ অথবা ৮ এর কম হবার কথা না।&lt;br /&gt;এখন আমাদের দেখতে হবে এর কত বছর পর তার বিয়ে হয়েছিল। আমরা জানি তার বিয়ে হয়েছিল রাসূল (সা:) এবং সাহবীদের মদিনায় স্থায়ী হবার পর, অর্থাৎ, নবুয়্যতের ১৩ কিংবা ১৪ তম বছরে। সাধারণ অংক কষলে দেখা যাবে যখন রাসূল (সা:)-এর সম্ভাব্য স্ত্রী হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল তখন তার বয়স ১৪-এর কম হতে পারেনা বা অন্যভাবে বলা যায় রাসূল (সা:)-এর সাথে বিয়ের সময় তার বয়স ১৭-এর কম হতে পারেনা। এমনকি প্রবল সম্ভাবনা আছে যে তার বয়স আসলে আরও বেশী ছিল, সম্ভবত ১৯।&lt;br /&gt;এখন কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে রাসূল (সা:) ৫৩ অথবা ৫৪ বছর বয়সে ১৭ বা ১৯ বছরের এক তরুণীকে বিয়ে করলেন কেন ? এটা বুঝতে হলে আমাদের একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যে আমরা সামাজিক রীতি নীতিকে অপর একটি ভিন্ন সমাজের জন্য প্রযোজ্য করতে পারিনা - এমনকি যদি দু’টি সমাজ একই সময়েরও হয়। তাই আমেরিকার সামাজিক রীতি নীতি আফ্রিকা, মালয়েশিয়া বা জাপানে প্রযোজ্য নয়। আবার এদের কোন দেশেরটিই অন্য আর একটি দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। সেসময়ের আরবের লোকেরা একজন লোক ও তার স্ত্রীর মধ্যে বয়সের পার্থক্যের তেমন কোন গুরুত্ব আছে বলে মনে করতনা। এখানে উমর ইবনে খাত্তাব (রা:) ও তার মেয়ে হাফসার কথা তুলে ধরা যেতে পারে। যখন তার মেয়ের তালাক হয়ে গেল তখন উমর (রা:) আবু বকর (রা:)-কে তার মেয়ের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন, যেখানে উমর (রা:) নিজেই আবু বকরের (রা:) চেয়ে ১০ বছরের ছোট ছিল। যদি বিয়েটি হত তাহলে স্বামী স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য ত্রিশের কম হতনা। তারপরও উমর ভাবছিলেন এটি একটি চমৎকার এবং প্রীতিকর জুটি হতে পারে। যখন আবু বকর এ প্রস্তাবের জবাব দিতে দেরী করছিলেন তখন তিনি উসমানকে (রা:) প্রস্তাব দেন, যে উমরের (রা:) চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের ছোট ছিল। কিন্তু উসমানের (রা:) বিয়ে না করার একটি কারণ ছিল, ফলে শেষে রাসূল (সা:)-এর সাথে উমরের কন্যা হাফসার বিয়ে হল। রাসূল (সা:) আবু বকরের সমবয়সী বা তার কিছূটা বড় ছিলেন। আসল কথা হল তখন বয়সের পার্থক্যকে গণনায় ধরা হত না।"&lt;br /&gt;একজন বড় স্কলার এবং বর্তমান কালে লিখিত অন্যতম ও বিশাল সিরাত গ্রন্থের প্রণেতা হিসেবে আদিল সালাহির কথা অবশ্যই বিবেচনার দাবী রাখে। তদুপরি তিনি যে যুক্তিগুলো উপস্থাপন করেছেন তা খুবই শক্তিশালী। অনেক সময় আমাদের মধ্যে দুর্বল ধারণাগুলো প্রচলন পায় বেশী। আশা করি আদিল সালাহির লেখাটি আমাদের ধারণাকে পূনুর্বিন্যস্ত করতে সহায়তা করবে এবং বিপথগামী কিছু লোকের মনগড়া অভিযোগের পথ বন্ধ করবে। যদিও তারা তাদের মুখ বন্ধ করবে কিনা জানা নেই। কারণ মিথ্যা অভিযোগকারীরা সাধারণত যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হয়না। তারা যুক্তি দিয়ে পরিচালিত হোক এটুকুই আমরা কামনা করতে পারি মাত্র।&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/8651028466442247475-1513713787947295105?l=adams-son.blogspot.com' alt='' /&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://adams-son.blogspot.com/feeds/1513713787947295105/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='http://www.blogger.com/comment.g?blogID=8651028466442247475&amp;postID=1513713787947295105' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/1513713787947295105'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/8651028466442247475/posts/default/1513713787947295105'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://adams-son.blogspot.com/2008/11/blog-post.html' title='আয়েশা (রা:)-এর বিবাহের বয়স প্রসংঙ্গে'/><author><name>আদম সন্তান</name><uri>http://www.blogger.com/profile/12740870710546093877</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:image rel='http://schemas.google.com/g/2005#thumbnail' width='16' height='16' src='http://img2.blogblog.com/img/b16-rounded.gif'/></author><thr:total>0</thr:total></entry></feed>
